বিশ্বের বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টেই আধিপত্য বিস্তার করছে ভারতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। আইপিএলের বাইরে এসএ টোয়েন্টি, আইএল টি-টোয়েন্টি, সিপিএল, মেজর লিগ ক্রিকেটে তাদের মালিকানা রয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে দ্য হান্ড্রেডের সঙ্গে। ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্টের ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা আছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ ও সানরাইজার্স লিডসে।
এক যুগের বেশি সময় ধরে আইপিএলে ‘নিষিদ্ধ’ পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। এসএ টোয়েন্টি ও আইএল টি-টোয়েন্টিতেও ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নেওয়া হয় না তাদের। গুঞ্জন ছিল, একই চিত্র দেখা যেতে পারে দ্য হান্ড্রেডেও। যদিও এমন কিছু শেষ পর্যন্ত হয়নি। ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যে আবরারকে পেতে ট্রেন্ট রকেটসের সঙ্গে লড়াই করে সানরাইজার্স। ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে পাকিস্তানি স্পিনারকে পেয়ে যায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
আবরারকে দলে নেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছে ভারতীয় মিডিয়া গ্রুপ সান টিভি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কর্ণধার কাভিয়াকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচ্ছেতাই বলে সমালোচনা করছেন ভারতীয়রা। অনেকে কাভিয়াকে ‘গাদ্দার’ও বলছেন। এ ছাড়া আইপিএলে তাদের মালিকানাধীন সানরাইজার্স হায়দরাবাদকেও বয়কটের ডাক দিচ্ছেন। আবরারকে নিলে এমন সমালোচনা হতে পারে সেটা আগে থেকেই জানতেন ড্যানিয়েল ভেটরি।
সানরাইজার্সের প্রধান কোচ বলেন, ‘আমরা আমাদের জন্য উপযুক্ত সব খেলোয়াড়ের কথা মাথায় রেখেই নিলামে এসেছিলাম। আন্তর্জাতিক দলের বেশ কয়েকজন ভালো মানের স্পিনার আমাদের বিকল্প ভাবনায় ছিল। তবে আবরারই আমাদের অগ্রাধিকার ছিল। বোলিংয়ে তার বৈচিত্র্য সত্যিই অনন্য। বিশেষ করে অনেক ঘরোয়া ক্রিকেটার তাকে আগে কখনো দেখেনি।’
চলতি মার্চ থেকে পর্দা উঠতে যাওয়া আইপিএলে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের। নিলাম থেকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনে নিলেও রাজনীতির মারপ্যাঁচ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘উগ্রবাদীদের’ উত্তেজনা ও জনগণের তোপের মুখে বাংলাদেশের পেসারকে বাদ দিতে বাধ্য হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ধারণা করা হচ্ছে, একই ঘটনা ঘটতে পারে আবরারের ক্ষেত্রেও।
দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় আবরারকে দলে নিয়ে চাপে পড়তে পারে সানরাইজার্স। নতুন খবর হচ্ছে, আবরারকে কেনার কয়েক ঘণ্টা পর তাদের এক্স অ্যাকাউন্টটি স্থগিত (সাসপেন্ড) হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে গেলে লেখা দেখাচ্ছে, ‘, ‘অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে। এক্সের নিয়ম লঙ্ঘন করলে এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে।’ তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।