‘ট্রফি না জিতলে এক মৌসুমে ৬০০—৭০০ রান করার দাম নেই’

ছবি: বিসিসিআই

আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটারের তালিকায় কোহলি ও শিখর ধাওয়ানের পরেই আছেন রোহিত। ২৬৬ ম্যাচে ২৯.৭৩ গড় ও ১৩১.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৬ হাজার ৮৬৮ রান করেছেন মুম্বাইকে পাঁচবার শিরোপা জেতা অধিনায়ক। দুই সেঞ্চুরির সঙ্গে ৪৫ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ২০২৪ সালে সেরা চারে ওঠার আগেই ছিটকে যাওয়া মুম্বাইয়ের হয়ে ৪১৭ রান অবশ্য করেছিলেন।
টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা রোহিতের
২ ঘন্টা আগে
মারকাটারি ব্যাটিংয়ের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও ধারাবাহিক রান তোলায় প্রায়শই পিছিয়ে পড়ছেন রোহিত। ১৮ বছরের আইপিএল ক্যারিয়ারে ২০১৩ সালেই একমাত্র এক মৌসুমে ৫০০—এর বেশি রান করেছিলেন তিনি। বাকি মৌসুমগুলোতে সাতবার করেছেন ৪০০—এর বেশি রান। ২০১৩ সালের পর থেকে অবশ্য ৪০০—এর বেশি রান করেছেন চারবার। বিপরীতে ডানহাতি ব্যাটারের সঙ্গে লড়াইয়ে থাকা কোহলি, ওয়ার্নাররা ছিলেন ঢের এগিয়ে।
রোহিত যেখানে একবারই কেবল ৫০০—এর বেশি রান করেছেন সেখানে ওয়ার্নার সেটি করেছেন ১৫ মৌসুমে সাতবার। ২০১৬ সালে আইপিএলে নিজের ক্যারিয়ারসেরা মৌসুমে করেছিলেন ৮৪৮ রান। কোহলির ক্ষেত্রে ১৮ মৌসুমে সাতবার ৫০০—এর বেশি রান করেছেন। ২০১৬ সালে এক মৌসুমেই করেছিলেন আইপিএলের ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বশি ৯৭৩ রানের রেকর্ড। এ ছাড়া সবশেষ দুই মৌসুমের একটিতে ছয়শর বেশি অন্যটিতে পেরিয়ে গেছেন সাতশ।

তাদের দুজনের বিবেচনায় তাই অনেকটা পিছিয়েই থাকবেন রোহিত। কদিন আগে বীরেন্দর শেবাগ দাবি করেছেন, পাওয়ার প্লেতে ঝুঁকি নিতে গিয়ে রোহিত নিজের লিগ্যাসি নষ্ট করেছেন। যদিও এসব নিয়ে খুব বেশি ভাবনা নেই রোহিতের। ডানহাতি ওপেনার মনে করেন, রান করার পর দল যদি ফাইনালে না ওঠে কিংবা শিরোপা না জেতে তাহলে ওই রানের খুব বেশি কার্যকারিতা নেই।
ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের জেরে বদলে গেল পাঞ্জাব-মুম্বাই ম্যাচের ভেন্যু
৪ ঘন্টা আগে
ভিমালওয়া ইউটিউব চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে রোহিত বলেন, ‘আমার লক্ষ্য কখনই এমন ছিল না এক মৌসুমে নির্দিষ্ট এত রান করতে হবে। আমি ম্যাচ জিততে চাই এবং সেটার জন্য সবসময় আমি আমার নিজের সেরাটা দিয়েছি। আপনি ৬০০ কিংবা ৭০০ রান করলেন কিন্তু আপনার দল ট্রফি জিতল না। তখন এই রানের কোনো দাম নেই।’
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬৪৮ রান করেছিলেন রোহিত। একটি হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে পাঁচটা সেঞ্চুরিও করেছিলেন ডানহাতি এই ওপেনার। তবে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। সেই বিশ্বকাপ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন বলে জানান রোহিত।
তিনি বলেন, ‘২০১৯ বিশ্বকাপ থেকে আমি এটা শিক্ষা নিয়েছি। আপনি যদি ফাইনালে উঠতে না পারেন এবং শিরোপা জিততে না পারেন তাহলে ওই ৫০০ কিংবা ৬০০ রান দিয়ে আপনি কী করবেন? এটা হয়ত আমার নিজের জন্য ভালো কিন্তু দলের জন্য মোটেও ভালো নয়।’
মুম্বাইয়ের কারও কমলা টুপি (ওরেঞ্জ ক্যাপ) না জেতার উদাহরণ টেনে রোহিত বলেন, ‘আমি এটা দাবি করছি না যে আমার ৩০ রান দলকে জেতাতে সহায়তা করছে। আমার লক্ষ্য হচ্ছে অবদান রাখা যা দলের জন্য ভালো হবে। আগে ভাবতাম আমাকে রান করতে হবে কিন্তু এখন সেটা করি না। মুম্বাই যখনই শিরোপা জিতেছে আমাদের দল থেকে কেউই ওরেঞ্জ ক্যাপ জেতেনি। এটার পেছনে এমন একটা কারণ আছে।’