১৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অধিনায়ক বোপারা ও দাওয়িদ মালানের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় ইংল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে ২৯ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটার। ব্যাট হাতে চমকে দেবার পর বল হাতেও বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন রাহি। ১১ বলে ১৮ রান করা মালানকে আরাফাত সানির ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর জেসন রয়কে নিয়ে ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিলেন বোপারা।
বিস্ফোরক হয়ে ওঠার আভাস দেয়া রয়কে বোল্ড করেন এনামুল হক জুনিয়র। আউট হবার আগে ১ টি করে ছক্কা ও চারে ৯ বলে ১৫ রান করেন রয়। ইংল্যান্ডের ১০০ রানে পৌঁছানোর আগেই অলরাউন্ডার সামিট প্যাটেলকেও ফিরিয়ে দেন জিয়াউর রহমান। এরপর উইকেটরক্ষক ফিল মাস্টার্ডকে সাথে নিয়ে দলকে জয়ের পথে নিতে থাকেন বোপারা। তুলে নেন ফিফটিও। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মাস্টার্ড।
৪৫ বলে ৬ টি ছক্কা ও ৫ টি চারে অপরাজিত ৭৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন ইংলিশ অধিনায়ক। অন্যদিকে মাত্র ১৭ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারে ৩৭ রানের ক্যামিও খেলে ইংল্যান্ডের সহজ জয় নিশ্চিত করেন মাস্টার্ড। ২৩ বল আগেই ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেন ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স। বাংলাদেশের হয়ে রাহি, এনামুল ও জিয়া একটি করে উইকেট নেন। আসরে দুই ম্যাচ খেলে এটি ইংলিশদের টানা দ্বিতীয় জয়।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেনে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের। ইনিংসের চতুর্থ বলেই রায়ান সাইডবটমের বলে তার কাছেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন ইমরুল কায়েস। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে শুরুর সেই ধাক্কা আর বড় হতে দেননি রনি ও ফজলে রাব্বি। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে শেষে ৫৩ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লের শেষ বলে টবি রোনাল্ড জোনসের বলে আজমল শেহজাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রাব্বি। এর আগে ১৬ বলে দুই ছক্কা ও ১ চারে ২৬ রান করেন এই বাঁহাতি। অন্যপ্রান্তে অবিচল রনি এবার আরেকটি দারুণ জুটি গড়েন উইকেটরক্ষক জহুরুল ইসলাম অমির সাথে। তবে, আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ১৩ তম ওভারে সামিট প্যাটেলের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয় হন এই ওপেনার। আউট হবার আগে ৩৭ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে ৪৪ রান করেন তিনি।
এক বল পরেই ফিরে যান ১৬ রান করা জহুরুলও। পরের ওভারের প্রথম বলেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আজমল শেহহাদের বলে লেগ বিফোর হয়ে মাত্র ২ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে। ৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বড় স্কোরের স্বপ্ন ফিকে হতে থাকে চ্যাম্পিয়ন্সদের। দারুণ শুরু করা নাসির হোসেন, জিয়াউর রহমানরাও কেউ দুই অংকে পৌঁছাতে পারেননি। ১১৫ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে বাংলাদেশ।
শেষদিকে ঝড় তোলেন দুই বোলার রাহি ও সানি। দুই টেইলএন্ডারের ২০ বলে ৩৩ রানের জুটিতে দেড়শ পেড়োয় বাংলাদেশের স্কোর। ১৬ বলে ১ ছক্কা ও চারটি চারে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন রাহি। অন্যদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ১২ বলে ১৫ রান করা সানি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৪ রান করে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্সের হয়ে সামিট ৪ টি, সাইডবটম ২ টি এবং জোনস, আজমল ও মন্টি প্যানেসার ১ টি করে উইকেট নেন।