আইসিসি বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেয়নি। বেশ কয়েকবার আলোচনার পর বাংলাদেশ নিজেদের যুক্তি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভূক্ত করে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলতে যাওয়ার জন্য অনেকেই সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে দায়ী করেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার কারণ উদঘাটন করতে তদন্ত করবেন তারা। এরপর সেই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে। এই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার। এদিন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির প্রধান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির বাকি দুই সদস্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর। যদিও ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও কোনো স্পষ্ট বক্তব্য ছিল না বাংলাদেশ সরাসরি কার সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি।
তদন্ত কমিটির কেউ তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেনি। পাশাপাশি এই তদন্তে আইসিসিরও কোনো বক্তব্য নেয়া হয়িনি। দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে তারা কাউকে নির্দিষ্টভাবে দায়ীও বলতে পারেননি স্পষ্টভাবে। তবে তাদের মতামত বাংলাদেশের এই বিশ্বকাপে যাওয়া উচিত ছিল।
কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশের যাওয়া উচিত ছিল। বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, যাওয়া উচিত ছিল।’ আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি যোগ করেন, ‘সঠিক না বেঠিক, কীভাবে বলব! তখনকার প্রেক্ষাপটে সরকার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বিসিবিকে। বিসিবি সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।’ অন্য এক প্রশ্নে ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে খেলতে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। দোষটা কার আপনারা বুঝে নেন।’
এই তদন্ত রিপোর্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিল ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিতে পাঠানো একটি চিঠি। যেখানে লিখা ছিল নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ ভারতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। এই প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসিফ নজরুলের বিভিন্ন স্ট্যাটাস, প্রকাশ্য বক্তব্যের বিবরণী দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়া সাংবাদিক ক্রিকেটারদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বক্তব্য আছে বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালেরও। মতামত তুলে ধরা হয়েছে বিসিবির সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনেরও।
প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে কমিটি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবমুক্ত রাখা, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থ সুরক্ষায় বিসিবির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিসিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার ও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করার সুপারিশও করা হয়েছে।