সৌম্য-তানজিদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজ
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারার পর প্রথম দুই ওয়ানডেতেও হারে বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে হারলে হোয়াইটওয়াশ হতে হতো সফরকারীদের। ব্যর্থতার চক্রে ঘুরতে থাকা বাংলাদেশের সামনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর বিকল্প ছিল না। শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও তানভির ইসলাম মিলে জিম্বাবুয়েকে ১৯৯ রানে আটকে দেন। দুইশ রান তাড়ায় সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিমও বাংলাদেশকে প্রত্যাশা শুরুই এনে দেন। তাদের দুজনের হাফ সেঞ্চুরি ও ১৫১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের ভিতটা পায় বাংলাদেশ। সৌম্যর মতো তানজিদকেও ফিরতে হয়েছে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে। তবে তাদের দুজনের ব্যাটেই ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে সফরকারীরা। শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে রান তাড়ায় বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। শুরু থেকেই খানিকটা আক্রমণাত্বক মেজাজে ব্যাটিং করেন তানজিদ। তবে বিপরীত চিত্র ছিল সৌম্যর ক্ষেত্রে। যদিও তাদের দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তোলে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে সৌম্য ও তানজিদ মিলে সাবধানী ব্যাটিং করেছেন। তানজিদ পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরিও।

সিকান্দার রাজার বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৪৯ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। একটু পর তাদের দুজনের জুটির একশ পূরণ হয়। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও পরবর্তীতে রান বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন সৌম্য। সাবধানী ব্যাটিংয়ে পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরিও। ব্রায়ান বেনেটের বলে চার মেরে ৬৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। পুরো ম্যাচ জুড়েই কয়েকবার জীবন পেয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। যেখানে তানজিদ একাই তিনবার জীবন পেয়েছেন।

জীবন পেয়ে সুযোগটা অবশ্য কাজেও লাগিয়েছেন তানজিদ ও সৌম্য। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তানজিদ স্বাভাবিক খেলা খেলতে থাকেন। তবে দ্রুত গতিতে রান তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সৌম্য। বাংলাদেশের যখন ৪৯ রান প্রয়োজন তখন সেঞ্চুরির জন্য সৌম্য সরকারের দরকার ছিল ৩১ রান। তবে সেটা করতে পারেননি তিনি। বরং তানাকা শিভাঙ্গার দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন সৌম্য। ছয়টি চার ও দুইটি ছক্কায় ৬৯ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার। সৌম্যর বিদায়ে ভাঙে তানজিদের সঙ্গে ১৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি।

পরবর্তীতে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ। বাংলাদেশের জয়ের জন্য যখন ১৩ রান প্রয়োজন তখন সেঞ্চুরি থেকে ১৬ রান দূরে ছিলেন তানজিদ। এমন সময় ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে ছক্কা ও চার মারেন তিনি। পরবর্তীতে সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও সেটা পারেননি বরং ৯৪ রানের ইনিংস খেলে ফিরতে হয়েছে তানজিদকে। একই ওভারে আউট হয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। তবে বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।

এর আগে ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও ক্রেইগ আরভিনকে দ্রুতই ফিরিয়ে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। তবে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ওয়েসলি মাধেভেরে ও ইনোসেন্ট কাইয়া। তারা দুজনে মিলে ৫১ রানের জুটি গড়েন। কাইয়াকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাসকিন। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি সিকান্দার রাজা।

রিচার্ড এনগারাভার বিশ্রামে জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক রাজা ২৫ বলে ১১ রান করেছেন। ৭৪ বলে ৭৫ রান করা মাধেভেরে ফিরে গেলে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শেষের দিকে ইভান্সের ৪৩ বলে ৫০ রানের ক্যামিও ইনিংসে ২০০ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম চারটি উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া তাসকিন ও তানভির ইসলাম দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন।

আরো পড়ুন: