চট্টগ্রামে রান তাড়ায় ঝড়ো শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করেন মার্শ ও জশ ইংলিস। পাওয়ার প্লে শেষের আগে তাদের দুজনের জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। বাঁহাতি এই স্পিনারের বলে শামীম হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১৭ রান করা ইংলিস। তবে আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালাতে থাকেন মার্শ।
নাহিদ রানার এক ওভারে ২০ রান নেওয়ার পর ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর শরিফুল ইসলামের বলে আউট হয়েছেন মার্শ। ২৮ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। শেষ বেলায় কুপার কনোলিকে ফেরান রিশাদ হোসেন। যদিও জয় পেতে কষ্ট হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট পেয়েছেন রিশাদ, শরিফুল ও নাসুম।
এর আগে টস হেরে বোলিংয়ে নেমে মার্শ শুরুতেই আক্রমণে ব্যবহার করেন নিখিল চৌধুরিকে। প্রথম ওভারেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তিনি দেন মাত্র ৬ রান। শুরুর ওভারের সেই স্বস্তি বেশি সময় টেকেনি বাংলাদেশের জন্য। দ্বিতীয় ওভারেই দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। ইনিংসের গতি তখনই থমকে যায় স্বাগতিকদের।
স্পেন্সার জনসনের বলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে ফেরেন দুই বলে পাঁচ রান করা তানজিদ। একই ওভারে ৯ বলে এক রান করে সাইফ হাসান ভুল শট খেলে মিড অফে ধরা পড়েন মিচেল মার্শের হাতে। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে।
চাপ আরও বাড়ে নিয়মিত উইকেট হারানোর কারণে। পারভেজ হোসেনও টিকতে পারেননি। ১৩ বলে এক রান করে নাথান এলিসের স্লোয়ারে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন তিনি। ছয় ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় তিন উইকেটে ২২ রান।
বাংলাদেশের ইনিংসে আরও বিপর্যয় এনে দেন নুরুল হাসান সোহান। অ্যাডাম জাম্পার একটি নিচু হওয়া বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে পুরোপুরি পরাস্ত হন তিনি। বল ব্যাটে না লেগে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হানে, আর উইকেট মেইডেন দিয়ে শুরু করেন জাম্পা।
আট বল খেলে এক চারসহ ছয় রান করে ফেরেন সোহান। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে জাম্পা আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে তার ৩৫০তম শিকার পূর্ণ করেন। চাপে থাকা ইনিংসে এরপরও স্বস্তি আসেনি।
শামীম হোসেন মাত্র পাঁচ বল খেলে কোনো রান না করেই কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। পরে রিশাদ হোসেন ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি বেশি দূর এগোয়নি। ২০ রানের জুটি ভেঙে যায় নিখিল চৌধুরীর হাতে ক্যাচ দিয়ে রিশাদের বিদায়ের মাধ্যমে।
৮৬ রানে আট উইকেট পড়ার পর একাই লড়াই করেন হৃদয়। ৪১ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ১৮.৩ ওভারে দলীয় একশ রান স্পর্শ করে বাংলাদেশ। অজিদের হয়ে জনসন, এলিস ও জাম্পা দুটি করে উইকেট নেন।