‘আমাকে কেউ বাউন্সার দিলে ছেড়ে কথা বলব না’

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
‘(নাহিদ) রানাকে বাউন্সার মারলে আবার বাউন্সার খেতেও হবে।’ প্রথম টেস্ট জয়ের পর এমনটা বলেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে একই সুরে প্রায় একই কথা বললেন নাহিদ নিজেও। বাংলাদেশের তারকা পেসার জানালেন, তাকে কেউ বাউন্সার মারলে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না।

নাহিদ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির পেসার। ২৩ বছর বয়সী নাহিদকে ভাবা হচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন তারকা। সাম্প্রতিক সময়ে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরাচ্ছেন তিনি। গতির মিশেলে ইয়র্কার কিংবা বাউন্সারে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছেন তিনি। তবে পেসারদের যে ধরনের আগ্রাসন কিংবা শরীরীভাষা থাকে সেটার ছাপ নেই তার মাঝে।

বরং বেশিরভাগ সময়ই শান্তশিষ্ট থাকতে দেখা যায় তাকে। তবে যখনই বল হাতে নেন তখনই যেন বদলে যান তিনি। মানসিকতায় যে পেসারদের ছাপ স্পষ্ট সেটা দেখা গেছে ঢাকা টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন নাহিদ। ওই সময় তার শরীর তাক করে বাউন্সার মেরেছিলেন শাহীন আফ্রিদি। দ্বিতীয় ইনিংসে সেটার প্রতিশোধ নিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার।

পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে শরীর তাক করা বাউন্সারে শাহীন আফ্রিদিকে আউট করেছিলেন নাহিদ। ওই ম্যাচ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্ত জানিয়েছিলেন, তিনি হলে নাহিদকে বাউন্সার মারতেন না। ডানহাতি পেসারকে বাউন্সার মারলে বাউন্সার খেতে হবে অধিনায়কের এমন মন্তব্য সামনে আনতেই একই সুরে কথা বললেন নাহিদ নিজেও।

২৩ বছর বয়সী নাহিদ বলেন, ‘বাউন্সার দিতে ভাববে কি না জানি না, তবে এতটুক বলতে পারি, আমাকে কেউ বাউন্সার মারলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলব না… এটা বলতে পারি।’

নাহিদকে বোলিং করতে দেখলে কখনো কখনো অনেকের মনে হয় সে যেন ধীরগতিতে বোলিংই করতে পারেন না। সেটার একটা বড় কারণ ডানহাতি পেসারের বেশিরভাগ ডেলিভারিই থাকে ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে। দিনের প্রথম ডেলিভারিটা যে গতিতে করেন সেই একই গতিতে স্পেলের শেষ ডেলিভারিটাও করেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০ ওভারের কোটার মাত্র একটি ডেলিভারি করেছিলেন ১৪০ কিলোমিটার গতির নিচে।

ওই সময় কিউই ব্যাটার অবাক হয়েছিলেন, এত গরমের মধ্যে কীভাবে এত জোরে দৌড়ে এসে এমন গতিতে বোলিং করেন। অনেক সময় পেসাররা ওয়ার্ম করতে স্পেলের প্রথম ডেলিভারিটা একটু ধীরে করেন। তবে নাহিদ জানালেন, ম্যাচের ভেতরে তিনি কখনো ওয়ার্ম আপ ডেলিভারি করেন না। বোলিংয়ে যাওয়ার আগে খানিকটা ওয়ার্ম আপ করে নেন বলে জানান তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘যখনই অধিনায়ক বলে যে বোলিং করবা, তার একটু আগে এসে ওয়ার্ম আপ করি। যাতে শরীরটা ভালোমতো গরম হয়ে যায় এবং ম্যাচের ভেতরে গিয়ে যাতে ধরেন ওয়ার্ম আপ বল না লাগে, যাতে প্রথম বল থেকে পুরো শক্তি নিয়ে করতে পারি, এর জন্য আর কী।’

আরো পড়ুন: