যদিও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং আকস্মিক ছিল না। ড্রেসিংরুম থেকে অধিনায়ক কোচদের মতামত চেয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ইতিবাচক সাড়া পেয়ে পাকিস্তানের বোলারদের তুলোধোনা শুরু করে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকেও লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে লিটন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমি যখন নেমেছি তখন উইকেটটা একটু কঠিন ছিল। তাই আমি জানি না যে খেলাটা এত দূর যাবে। কিন্তু শুরুতে যখন যাই, তখন আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে আমাদের টেইলএন্ডারদের অবস্থা খুব একটা ভালো না এবং আমারও প্রায় এক থেকে দুই রান ছিল। তো চিন্তা ছিল, যদি আমরা মারতে যাই, যদি আরও ৩০টা রান করে অলআউটও হয়ে যাই, অন্তত কঠিন কন্ডিশনে আমাদের বোলাররা বোলিং করতে পারবে।'
এরপর লিটন আরও যোগ করেন, 'এই মানসিকতা নিয়েই আমি তথ্যটা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু একই সঙ্গে তাদেরও প্রতিক্রিয়া ছিল যে ঠিক আছে, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলো। আর আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার পরে আমার কাছে মনে হয়েছে যে না, আমি উইকেটে ভালোভাবে সেট হয়ে গেছি। আর মনের ভেতরে এটাও ছিল যে যদি কোনো কারণে বৃষ্টি চলে আসে, যদি ১০টা ওভারও খেলতে পারি, এটা হয়তো পঞ্চম দিনে সাহায্য করবে। তো ওই হিসাবটা পরে আস্তে আস্তে বদলে গেছে।’
এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২২ সালে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মুশফিককে নিয়ে ২৭২ রানের জুটি গড়েছিলেন লিটন। এমনকি সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজেও বাংলাদেশের টেস্ট জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে জুটি গড়ে তুলে নিয়েছিলেন সেঞ্চুরিও। লিটন মনে করেন সঙ্গে একজন পরিপূর্ণ ব্যাটার থাকলে কাজটা সহজ হয়।
তিনি বলেন, 'শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে ইনিংসটা ছিল, ওটা পুরোপুরি আলাদা। কারণ মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপ ছিল। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আপনার সঙ্গে আরেকজন ব্যাটসম্যান থাকবে, তখন মানসিকতাটা পরিষ্কার থাকে। রাওয়ালপিন্ডিতেও একই ছিল যে মিরাজ একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেকক্ষণ ইনিংস খেলেছে। প্রায় আমার ৮০ রানের মতো ছিল, তো ২০ রান আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে। আর আজকেরটা পুরোপুরি আলাদা।'