২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে নাহিদ রানার ৪৪ রানে চার উইকেটের এক স্পেলেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। সেবারই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাহিদের উত্থান দেখেছিল বিশ্ব। এর মাঝে আরও পরিণত হয়েছেন এই পেসার। মিরপুরে পাকিস্তান শিবিরে রীতিমতো কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন নাহিদ। ঠিক যেমন বোলিং দেখা যেত শোয়েব আক্তার কিংবা পাকিস্তানের বিখ্যাত পেস বোলিং জুটি ওয়াসিম-ওয়াকারের সেরা সময়ে।
নাহিদের এমন বোলিংয়ে নিজের উত্তরসূরীদের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বাসিত বলেন, 'ক্রিকেটীয় দিক থেকে শান্ত 'প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ' হওয়ার দাবিদার, কিন্তু আমার কাছে 'ম্যান অফ দ্য ম্যাচ' হলো নাহিদ রানা। এই ছেলেটা পাকিস্তানের সেই পুরোনো বোলিংয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে- ওয়াসিম ভাই, ওয়াকার ইউনিস আর শোয়েব আখতারের কথা।'
দারুণ ফর্মে থেকে মিরপুর টেস্টে মাঠে নামার পরও প্রথম ইনিংসে ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছিল নাহিদকে। সেই ইনিংসে ২১ ওভার বল করে ১০৪ রান খরচ করে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে নাহিদের এমন পারফরম্যান্সের পরও বাসিত জানতেন নাহিদের মত পেসার যেকোনো মূহুর্তে কথা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন প্রতিপক্ষের জন্য।
এ প্রসঙ্গে বাসিত বলেন, 'প্রথম ইনিংসে নাহিদ রানা উইকেট পায়নি বলে অনেকে অনেক কথা বলছিলেন। ভাই, এই সাদা চুল এমনি এমনি হয়নি! ও স্ট্রাইকার বোলার, রান একটু দেবেই, কিন্তু উইকেটও ও-ই নেবে।'
শুধু নাহিদ নন, পুরো বাংলাদেশের পারফরম্যান্সেই মুগ্ধ। চতুর্থ দিন খেলা শেষে পাকিস্তানের সালমান আলী আঘার ছুড়ে দেয়া প্রছন্ন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বাংলাদেশ যেভাবে ইনিংসে ঘোষণা করেছে তারও প্রশংসা করেছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। টেস্ট ক্রিকেটে বড় দলের মত মানসিকতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ, এমনটাই মনে করেন বাসিত।
বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করে বাসিত বলেন, 'বাংলাদেশের নিচের দিকের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ব্যাটিং করেছে তা দেখে বোঝা যায়, তাদের কাছে উইকেটের চেয়ে দেশের গুরুত্ব বেশি। বাংলাদেশের ১১ জন খেলোয়াড় যেভাবে মাঠে লড়ছিল, তা দেখে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা ভারতের মতো কোনো বড় দল লড়ছে।'