যদিও বাংলাদেশের পাঁচ দিনের লড়াই খুব একটা সহজ ছিল না। প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করলেও সমানে সমান জবাব দিচ্ছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত তাদের ৩৮৬ রানে গুড়িয়ে দিয়ে লিড নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টির বাধার কারণে এক সেশনে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ।
আগের দিনই সালমান আলী আঘা প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেছিলেন বাংলাদেশ ২৬০ রানের লক্ষ্য দেয়ার সাহস দেখাবে না। তবে বাংলাদেশ ঠিকই পেরেছে। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন শক্তিশালী বোলিং আক্রমণই তাকে পাকিস্তানকে লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়ার সাহস দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খোলসা করে শান্ত বলেন, 'আমরা সকাল থেকেই পরিষ্কার ছিলাম যে আমরা কী করতে চাই। আমাদের সত্যি বলতে ইচ্ছা ছিল আরও ১৫-২০টা রান করার। তবে মাঝে মাঝে আমার মনে হয় যে এইরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও জরুরি। টেস্ট দল হিসেবে আমরা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছি, ওপরের দিকে যাচ্ছি আমার মনে হয়। তাই আমরা একটু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মনে হয় এই সিদ্ধান্তটা আমাদের সামনের দিকে সাহায্য করবে।'
দলের বোলারদের প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে শান্ত যোগ করেন, 'এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ হলো আমাদের যে বোলিং আক্রমণ আছে, যে পাঁচজন বোলার আমরা এই ম্যাচে খেলেছি তারা সবাই দক্ষ এবং সবাই ভালো বোলিং করেছে। আমার মনে হয় এই ইনিংসে মিরাজ যেভাবে শুরু করেছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিল ওখান থেকে মোমেন্টাম পাওয়া।'
এক সময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয়া পাকিস্তানের শুধু সময়ের ব্যাপার। দ্বিতীয় উইকেটে আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল ৫৪ রানের জুটি গড়ে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর চতুর্থ উইকেটে সালমান ও ফজল মিলে আরও ৫১ রান যোগ করে পাকিস্তানকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে বাংলাদেশের বোলাররাও ম্যাচে ফিরতে সময় নেননি। চা বিরতির পর পাকিস্তানের ব্যাটারদের দাঁড়াতেই দেননি বাংলাদেশের বোলাররা।
বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম, নাহিদ ও তাসকিনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে শান্ত বলেন, 'এরপর তাইজুল ভাই মাঝের ওভারগুলোতে দারুণ বোলিং করেছেন। প্রথম ইনিংসে তো অতটা সুযোগ পাননি বোলিং করার। তাই আমার মনে হয় চার-পাঁচটা বোলারেরই অবদান ছিল। বিশেষ করে এই ইনিংসে তাসকিন এবং নাহিদ রানার ওই স্পেলটা অসাধারণ ছিল।'