টেস্ট ক্রিকেটে তুলনামূলক আক্রমণাত্বক ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করতেন তামিম ইকবাল। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই প্রতিপক্ষের বোলারদের উপরে চাপ প্রয়োগ করে খেলতে চেয়েছেন, অনেক সময় খেলেছেনও। বাংলাদেশের হয়ে ৭০ টেস্টে ৫ হাজারের বেশি রান করা বাঁহাতি সাবেক ব্যাটার ৫৭.৯৯ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন। সাড়ে ছয়শর বেশি চার ও ৪১ ছক্কা মেরেছেন তামিম।
শান্ত অবশ্য ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে একশ করেছেন প্রায় ৮০ স্ট্রাইক রেটে। পুরোটা সময় কাউন্টার অ্যাটাক করে গেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ে তামিমকে নন স্ট্রাইক থেকে ব্যাটিং করতে গেছেন মুমিনুল। শান্তর ওমন ইনিংস দেখে তামিমের কথা মনে পড়েছে তার। বাংলাদেশের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মনে করেন, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে খেলা ইনিংসের মতো ব্যাটিং করেছেন শান্ত।
এ প্রসঙ্গে মুমিনুল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমি যখন প্রথম টেস্ট খেলা শুরু করি বাংলাদেশ দলের হয়ে তখন নন স্ট্রাইকে আমি বেশি ব্যাটিং উপভোগ করতাম তামিম ভাই যখন ব্যাটিং করতো। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় এরকম কন্ডিশনে ভালো ব্যাটিং করতো। আমার কাছে মনে হয় শান্তর ইনিংসটাও অনেকটা ওরকম। আমার চোখের সামনে দেখা শান্তর জীবনের অন্যতম সেরা ইনিংস। জানি না ও কীভাবে রেট করবে, কিন্তু আমার কাছে ওই রেটে ইনিংসটা অনেক ভালো ছিল।’
ব্যাট হাতে সময়টা খুব ভালো কাটছে শান্তর। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন, একশ ছুঁয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গেও। নতুন বছরেও সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছেন ১০১ রানের ইনিংস। সবশেষ ৮ ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। এ ছাড়া কদিন আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে করেছেন সেঞ্চুরি। মুমিনুল মনে করেন, শান্ত ক্যারিয়ারে ফর্মের তুঙ্গে আছেন।
বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘আমার মনে হয় দুর্দান্ত ফর্মে আছে শান্ত। আপনি যদি গত কটা ইনিংস দেখেন শ্রীলঙ্কার সাথে, আয়ারল্যান্ডের সাথে, সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের সাথেও ১০০ মারল তাও আবার চাপে ছিল, অনেক ইনিংস রান না করার পরে। একটা পঞ্চাশের পর একশ ১০০ মারল, তার আজকে আবার ১০০ মারল। কন্ডিশনটা অনেক কঠিন ছিল। আমার মনে হয় ওর জীবনে সবচেয়ে ভালো ফর্মের তুঙ্গে আছে।’
দুনিয়ার অন্য সব মানুষের মতো ক্রিকেটারদেরও ভালো সময় শেষে খারাপ সময় আসে। সাম্প্রতিক সময়ে সেটার অন্যতম উদাহরণ ভারতের বিরাট কোহলি, পাকিস্তানের বাবর আজম। টানা রান করে যাওয়ার পর খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন মুমিনুল নিজেও। একটা সময় যিনি নিয়মিত সেঞ্চুরি করতেন সেই মুমিনুলকে হাফ সেঞ্চুরি পেতেও বেগ পেতে হয়েছে। এজন্য শান্তকে একই মাইন্ডসেট, প্যাটার্নে খেলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মুমিনুল বলেন, ‘পরামর্শ থাকবে মাইন্ডসেট যেন একই থাকে। ভিন্ন কোনো কিছু চিন্তা না করে, খুব বেশি উপরে না ওঠা, খুব বেশি নিচেও না নামা। আমার মনে হয় মাটিতে পা রেখে যেভাবে খেলছে একই মাইন্ডসেটে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মনে হবে ভালো বলটাও মেরে দিই। আপনি সফল হবেন, প্রতিনিয়ত রান করবেন যদি আপনার প্যাটার্ন একই রকম থাকে। প্যাটার্ন যদি আবার ভিন্ন হয় তখন একটু কঠিন হয়ে যায়। আমার মনে হয় প্যাটার্ন যেহেতু ধরতে পেরেছে টেস্ট ক্রিকেটের, তাহলে প্রতিনিয়ত এই ফর্ম চলতে থাকবে আশা করি।’