একশ করার চেয়ে প্রতিদিন রান করা গুরুত্বপূর্ণ: মুমিনুল

বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ম্যাচের তখনো ঘণ্টাখানেক বাকি! দিনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দিতে মুমিনুল হক যেন একটু খোলসে ঢুকে পড়লেন। নোমান আলীর বলটা যেভাবে খেলতে চাইলেন সেটাও পারলেন না। বাঁহাতি স্পিনারের নিচু হওয়া ডেলিভারিটা লেগ সাইডে পুশ করতে চেয়ে উল্টো লেগ বিফোর হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও ৯ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে বাঁহাতি ব্যাটারকে। ৯১ রানের ইনিংস খেলে মুমিনুল ড্রেসিং রুমে ফিরছিলেন রাজ্যের হতাশা নিয়ে।

নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়া কিংবা সেঞ্চুরি করা অনেকাংশে বানিয়ে ফেলছেন মুমিনুল। এসব সয়ে আক্ষেপ করাই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তবে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করতে না পারা বাঁহাতি ব্যাটারকে খানিকটা আক্ষেপে পুড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে হাস্যোজ্জল মুমিনুল নিজেই সেটা স্বীকার করলেন। সেঞ্চুরি করতে না পারায় বউ নাকি বকাও দেবেন। তবে সেঞ্চুরি ছাপিয়ে ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটারের কাছে নিয়মিত রান করে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে মুমিনুল বলেন, ‘না, আক্ষেপ হয় না। এতদিন আক্ষেপ হয় নাই আজকে একটু আক্ষেপ হয়েছিল। তাও বউয়ের কারণে, বউ হয়ত একটু বকা দেবে। আসার পরে ২-৩ মিনিট একটু খারাপ লেগেছিল। সত্যি বলতে আমার কাছে একশর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন রান করা, প্রতিদিন অবদান রাখা।’

সাবধানী ব্যাটিংয়ে ১০২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন মুমিনুল। স্বাভাবিকভাবেই পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তুলনামূক দ্রুত গতিতে রান তোলেন ব্যাটাররা। তবে মুমিনুল ছিলেন নিজের পুরনো পরিকল্পনায়। একটা সময় ১৭০ বলে ৮০ রান নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন তিনি। যখন আউট হলেন তখন ২০০ বলে ৯১ রান। অর্থাৎ শেষ ১১ রান করতে ৩০ বল খেলতে হয়েছে তাকে। ওই সময় খানিকটা ধীরগতির হয়ে গিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে মুমিনুল জানিয়েছেন, আরও ঘণ্টাখানেক ব্যাটিং করতে চেয়েছিলেন।

মুমিনুল বলেন, ‘আমার মনে হয় না একটু ধীরগতির হয়ে গেছি। আমার ওইরকম রানের তাড়াও ছিল না। লক্ষ্য ছিল আর এক ঘণ্টা আছে, ওই এক ঘণ্টা স্বাভাবিক ক্রিকেট খেললে...। আর ও (নোমান) ভালো বল করছিল। যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম ওইভাবে খেলতে পারিনি, বলটা হঠাৎ করে নিচু হয়ে গেছে।’

৭৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এখনো পর্যন্ত ২৬ হাফ সেঞ্চুরি ও ১৩ সেঞ্চুরি করেছেন মুমিনুল। সবশেষ চার ইনিংসের সবকটিতে আউট হয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি করে। যেখানে দুইটি আশি পেরিয়ে এবং একটি নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে আউট হয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের বাকি সময়ে আশির ঘরে আউট হয়েছেন আরও চারবার। বারবার সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও কেন একশ ছুঁতে পারেন না মুমিনুল? এটা কেবলই মানসিক সমস্যা নাকি অন্য কিছু?

বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘হতে পারে মানসিক। আমার কাছে মনে হয় মানসিক হতে পারে কিন্তু এখনো ধরতে পারি নাই। ইনশাআল্লাহ ধরে ফেলব। একটু আগে যেটা বললাম দেখুন, আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি তখন সত্যি কথা আমি কোনো সময়ই ১০০ করব চিন্তা করি না। হয়ত আরেকটু চিন্তা করতে হবে। আমি যেটা চিন্তা করি সেটা হলো ৪-৫ সেশন ব্যাটিং করতে হবে। ওইটাই হয়ত আরেকটু মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। পাঁচ সেশন ব্যাটিং করলে আমার এমনিই ১০০-১৫০ হয়ে যাবে। ওই জায়গায় আমাকে আরেকটু মনোযোগী হতে হবে।’

আরো পড়ুন: