ক্লাবের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে মার্চ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও ডিপিএল আয়োজন করতে পারেনি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। কদিন আগেই নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ পাওয়ায় বুলবুলের বোর্ডকে ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটিকে বিসিবির দায়িত্ব দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। দায়িত্ব নেওয়ার পরই ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তামিম।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বাইরে বাকি ১০টা ক্লাবের প্রতিনিধিই ছিলেন সেই আলোচনায়। তখন থেকেই গুঞ্জন উঠে ডিপিএলে অংশ নেবে না রূপগঞ্জ। প্রধান কোচ হিসেবে হান্নান সরকারের সঙ্গে কথা পাকা করে রাখলেও তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন আবাহনী। সেই গুঞ্জন আরও ডানা মেলতে শুরু করে। এমন খবর কানে আসতেই লুৎফরকে ফোন করেন তামিম।
ডিপিএলে অংশ নিতে অনুরোধও জানান তিনি। বিসিবি সভাপতির পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলও লুৎফরকে ডিপিএলে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাদের দুজনের সঙ্গে আলোচনার পর নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লুৎফর। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।
লুৎফর বলেন, ‘আমরা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সব খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম যে আমরা খেলব না। সেই সূত্র ধরেই তামিম আমাকে ফোন করেছিল, ডেকেছিল। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া মন্ত্রীও আজকে আমাকে ডেকেছিল। দুজনের সাথেই খুব ভালো কথা হয়েছে এবং তারা অনুরোধ করেছে যাতে আমরা ক্রিকেটের (ডিপিএল) দল-বদলে অংশগ্রহণ করি, ক্রিকেটের মধ্যে থাকি। আমরা ওই অনুরোধটা রাখব, ইনশাআল্লাহ।’
ডিপিএলে অংশ না নেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল গত মৌসুমের খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেওয়া। তবে শেষ মুহূর্তে কয়েক জনকে রিটেইন করতে পেরেছে রূপগঞ্জ। গত বছর খেলা সাইফ হাসান, শরিফুল ইসলাম এবারও ক্লাবটির হয়ে খেলবেন। নতুন করে যোগ দিয়েছেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। এ ছাড়া ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রূপগঞ্জ।
দল নিয়ে লুৎফর বলেন, ‘আমাদের সাথে সাইফ এখনো আছে। সৌম্য নেই, নাসুম এসেছে। জাতীয় দলের কথা যদি বলেন তাহলে নাসুম শরিফুল, সাইফ— এই তিনজন আমাদের আছে। মিরাজের সাথে কথা হচ্ছে, তিন-চার জন জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছে। যুব বিশ্বকাপ খেলেছে ওদের সমন্বয়ে খুব ভালো দল হচ্ছে। ইরফানও আছে। সবমিলিয়ে আমাদের দলটা ভালোই হচ্ছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি তো সবসময় দল গঠন করেছি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। এখনো মাঠে নামব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। এখন কিছু খেলোয়াড় চলে গেছে, গতবারের কিছু খেলোয়াড় আছে। সবকিছু মিলে আমার মনে হয় দল গঠন করি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ, যদি কপালে থাকে চ্যাম্পিয়ন হতে পারি।’