সুস্থ হতে লাগবে ১ বছর, তবুও নিউজিল্যান্ড সিরিজের বিবেচনায় হৃদয়

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
তাওহীদ হৃদয়, ফাইল ফটো
তাওহীদ হৃদয়, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) খেলার সময় কনুইতে চোট পান তাওহীদ হৃদয়। সেই ইনজুরি সামলে নিয়ে পাকিস্তান সিরিজে খেলেন এই ব্যাটার। কিন্তু সে সিরিজে একটি ইয়র্কার সামলাতে গিয়ে সেই চোট আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। জানা গেছে, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে এক বছর সময় লাগবে তার।

যদিও আসন্ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজে হৃদয়কে খেলানোর ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল টিম। এই ধরনের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে প্রায় এক বছরের মত সময় লাগতে পারে। তবে ইনজুরি সামলে নিয়ে এই সময় খেলে যেতে কোনো বাঁধা নেই তার।

বিসিবির মেডিকেল টিমের এক প্রতিনিধি ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বলেন, 'হৃদয় কনুইয়ের ইনজুরিতে ভুগছে। সাধারণত এই ধরনের সমস্যা ব্যাটসম্যানদের টপ হ্যান্ডে হয়। এটি মূলত একই ধরনের নড়াচড়া বারবার করার কারণে হয়ে থাকে।'

'বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ থেকেই তার এই কনুইয়ের সমস্যা কিছুটা ছিল, তবে আমরা সেটি নিয়ন্ত্রণ করেছি এবং সে খেলা চালিয়ে গেছে। পরে পাকিস্তান সিরিজে সম্ভবত একটি ইয়র্কার বল ব্যাটের নিচে লাগে, যার ফলে তার কনুইতে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং সমস্যা বাড়তে থাকে। যখন এটি আরও খারাপ হয়, তখন তার জন্য ব্যাট ধরা পর্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।'

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগেই যেন হৃদয় পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারেন সেভাবেই এখন তাকে নিয়ে কাজ করছে বিসিবি। ইনজুরি সামলে খেলার জন্য কিছু নতুন ধরনের অনুশীলন করানো হচ্ছে এই ব্যাটারকে।

বিসিবির মেডিকেল টিমের সেই সদস্য যোগ করেন, 'এখানে মূল নিয়ম হলো—যে ধরনের বারবার করা মুভমেন্টের কারণে ব্যথা হচ্ছে, সেটি বন্ধ রাখতে হবে। আমরা সেটি বন্ধ করেছি এবং বাকি সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা দিচ্ছি, যাতে তাকে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য প্রস্তুত করা যায় এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সে সিরিজে খেলতে পারবে।'

'শতভাগ ব্যথামুক্ত হওয়া খুবই কঠিন। সাধারণত এই ধরনের ইনজুরি পুরোপুরি সেরে উঠতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। আমরা ইতোমধ্যে তাকে বুঝিয়েছি যে কিছুটা ব্যথা থাকবে এবং তাকে সেটি নিয়েই খেলতে হবে। যদি আমরা পুরোপুরি ব্যথামুক্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি, তাহলে এক বছরের মধ্যে তার পক্ষে ক্রিকেট খেলা সম্ভব হবে না।'

আগামী ১৭ এপ্রিল শুরু হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ। সীমিত ওভারের এই সিরিজকে সামনে রেখে এরই মধ্যে দুইদিনের ফিটনেস ক্যাম্পে অংশ নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। পাঁচ এপ্রিল থেকে শুরু হবে স্কিল ক্যাম্প। স্কিল ক্যাম্প শুরু হলেই হৃদয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারি হেড কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

সালাউদ্দিন বলেন, 'আমি তার টেনিস এলবো সমস্যার কথা শুনেছি, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ অনেক ব্যাটসম্যানই এই ইনজুরি নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেছে। যখন সে স্কিল ক্যাম্পে যোগ দেবে, তখন সে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তখনই বোঝা যাবে, তার টেনিস এলবো সমস্যার দিক থেকে সে ঠিক কোন অবস্থায় আছে।'

আরো পড়ুন: