বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডল অর্ডার হিসেবে বিবেচনা করা মুশফিক। লম্বা সময় মিডল অর্ডারের দায়িত্ব সামলেছেন ডানহাতি সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটার। ২৭৪ ম্যাচে ৯ সেঞ্চুরি ও ৪৯ হাফ সেঞ্চুরিতে ৭ হাজার ৭৯৫ রান করেছেন। মুশফিকের ঠিক নিচের দিকে খেলা সাকিবেরও পারফরম্যান্সও চোখে পড়ার মতো। ২৪৭ ওয়ানডেতে করেছেন সাড়ে সাত হাজার রান।
৯ সেঞ্চুরির সঙ্গে সাকিবের ৫৬টা হাফ সেঞ্চুরি আছে। ফিনিশার হিসেবে খেলা মাহমুদউল্লাহ ২৩৯ ম্যাচে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি রান করেছেন। এমন তিন ক্রিকেটার না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মিডল অর্ডারে একটা অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণে লিটনকে মিডল অর্ডারে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রথম ওয়ানডেতে তিন নম্বরে খেলেছেন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। দ্বিতীয় ম্যাচে চারে খেলে করেছিলেন ৩৩ বলে ৪১ রান। সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও চারে খেলেছেন তিনি। ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ৫১ বলে খেলেছেন ৪১ রানের ইনিংস। পুরোপুরি প্রত্যাশা মেটাতে না পারলেও লিটনকে নিয়ে আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট। আশরাফুল মনে করেন, ওই রকম একটা জায়গায় লিটনের থিতু হতে পারাটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক।
এ প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, ‘অবশ্যই, দেখুন— লিটনের দলে থিতু হওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু সে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এবং টেস্টেও তার রেকর্ড চমৎকার। ওয়ানডেতে কিছু খারাপ সময় যাচ্ছিল, আমি মনে করি এই সিরিজটা তাকে আলাদা আত্মবিশ্বাস দেবে। যেহেতু আমাদের চার, পাঁচ ও ছয়ে মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, সাকিবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল, তারা দেড় বছর ধরে থাকায় আমাদের একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দরকার যে ১২-১৩ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। এই জায়গায় লিটনের থিতু হওয়াটা আমাদের দলের জন্য খুবই পজিটিভ দিক।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর পাকিস্তান সিরিজের পুরোটা খেলা হয়েছে মিরপুরে। পুরনো ইতিহাস অনুযায়ী, মিরপুরের উইকেট বেশিরভাগ সময়ই স্পিন নির্ভর ও ধীরগতির হয়ে থাকে। তবে পাকিস্তান সিরিজে দেখা গেছে ভিন্নতা। উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া থাকায় বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানরা। এমন উইকেটে খুশি আশরাফুল নিজেও।
বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, টানা দুইটা সিরিজ জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানের সাথে। সবচেয়ে যে জিনিসটা ভালো লেগেছে আমরা স্পোর্টিং উইকেটে খেলেছি। এতদিন সবাই বলতো মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেট বানানো কঠিন। কিন্তু এই প্রথম আমরা তিনটা ম্যাচ খেলেছি যেখানে পেসার, স্পিনার ও ব্যাটার— সবাই হেল্প পেয়েছে। যারা ভালো তারা সবাই এই উইকেটে উপভোগ করেছে। আমি বলব ভালো একটা সিরিজ কাটিয়েছি আমরা।’