পড়াশোনায় না পারলেও ক্রিকেট ময়দানে ৮২ শতাংশ নম্বর পেয়ে তৃপ্ত সূর্যকুমার

ভারতীয় ক্রিকেট
সূর্যকুমার যাদব
সূর্যকুমার যাদব
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অন্য সবার মতো ছোটবেলায় পড়াশোনার চেয়ে ক্রিকেটে বেশি বুঁদ হয়ে থাকবেন সূর্যকুমার যাদব। ক্রিকেটের প্রেমে মজে থাকা ডানহাতি ব্যাটার পড়াশোয় বেশি নম্বর পেতে চাইলেও সেটা কখনো করতে পারেননি। ছাত্রজীবনে না পারলেও ক্রিকেটের ময়দানে সেই সাফল্য ছুঁয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে জয় এনে দিয়েছেন ৮২ শতাংশ ম্যাচে। সেই নম্বর পেয়ে তৃপ্তি ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

রোহিত শর্মা সরে যাওয়ার পর ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। তারকা অলরাউন্ডারের চোটের কারণে কয়েকটি সিরিজে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সূর্যুকমার। পরবর্তীতে হয়েছেন ভারতের স্থায়ী টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। সূর্যুকমারের অধীনে দল হিসেবে আরও ভয়ানক হয়ে উঠেছে ভারত। সেটার ছাপ পড়েছে সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

নিউজিল্যান্ড উড়িয়ে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে ভারত। পুরো আসর জুড়ে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বগুণে প্রশংসা কুড়িয়েছেন সূর্যকুমার। এখনো পর্যন্ত ভারতকে ৫২ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ৪০ জয়ের বিপরীতে হার মাত্র ৮টি ম্যাচে। ৮২ শতাংশ ম্যাচে ভারতকে জয় এনে দিয়েছেন সূর্যকুমার। শতাংশের হিসেবে সবার উপরে আছেন তিনি। অন্তত ৫০ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন ৩২ অধিনায়কের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পরিসংখ্যান সূর্যকুমারের।

এমন সাফল্য নিয়ে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ভারতীয় সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘স্কুল ও কলেজে যে শতাংশ (নম্বর) পাওয়ার চেষ্টা করেছি, সেটা এখন ক্রিকেটে তা পাচ্ছি। (পড়াশোনায়) কখনোই ৫০-৬০ শতাংশের বেশি পাইনি। এখন এটা জানতে পেরে দারুণ লাগছে। যদিও পরিসংখ্যানকে খুব গুরুত্ব দেই না আমি। তবে কেউই তো ম্যাচ হারতে চায় না। আমিও চাই সব ম্যাচ জিততে।’

ছোটবেলায় বেশিরভাগ বাবা-মা চান তাদের ছেলেমেয়ে পড়াশোনায় ভালো হোক। শত কষ্ট করে হলেও পড়াশোনোয় তাদের মনোনিবেশ করার চেষ্টা করেন। সূর্যকুমারের বাবা অশোক কুমার যাদব তড়িৎ প্রকৌশলী হওয়ায় সেটা হয়ত আরও বেশি করে চাইতেন। তবে ক্রিকেটের প্রেমে মজে থাকা সূর্যকুমারকে স্কুলের বারান্দায় ফেরাতে পারেননি সেভাবে। ক্রিকেট ময়দানে বেশি সময় দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত নম্বর পেতেন না। ছেলে এমন ক্রিকেট প্রেম দেখে আর আটকাননি অশোক।

এ প্রসঙ্গে সূর্যকুমার বলেন, ‘আমার পরিবার প্রথমে অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে শিক্ষিত করে তুলতে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তারা বুঝে যান, পড়াশোনায় সেই ছেলের আগ্রহ তেমন নেই, এই ছেলেকে আটকে রাখা যাবে না। তবে খেলাধুলায়ও তারা সবসময় সমর্থন জুগিয়েছেন, কারণ তারা দেখতে পাচ্ছিলেন যে আমি এটা উপভোগ করছি, খেলতে ভালোবাসি আমি। তারা তখন বলেছেন, ‘ঠিক আছে, খেলা চালিয়ে যাও। যদি পরে কিছু না হয় এখানে, আমরা আছি তোমার পাশে।’ এভাবেই এগিয়েছি আমি।’

আরো পড়ুন: