এরপর বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ২ উইকেট হারালেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সেখানেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। ঘণ্টা দেড়েকের বিরতির পর বাংলাদেশ আর ছন্দ খুঁজে পায়নি। অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম হাফ সেঞ্চুরি পেলেও ব্যাটারদের আসা যাওয়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রানের লক্ষ্য়ও পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই জাওয়াদ আবরারকে হারায় বাংলাদেশ তিনি দীপেশ দেভেনদ্রানের বলে ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাত্র ৫ রান করে। দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের হাল ধরেন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম ও রিফাত বেগ। এই দুজনের ব্যাটে দলীয় পঞ্চাশ তুলে নেয় বাংলাদেশ। তবে খানিক বাদেই রিফাত বেগের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর দলের হাল ধরেন আজিজুল ও কালাম সিদ্দিকী এলিন। তবে বাংলাদেশের রান যখন ৯০ তখনই নামে বৃষ্টি। এর ফলে বাংলাদেশের লক্ষ্য তাড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রানের। এরপর বাংলাদেশ কিছুটা ধীর গতিতে খেলতে থাকে। এর মাঝেই তারা উইকেট হারায় কালামের। তিনি ১৫ রান করে ফেরেন।
যদিও ৭০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন অধিনায়ক আজিজুল। তবে পারভেজ জীবন ৭ রান করে ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৭২ বলে ৫১ রান করে ফিরেছেন অধিনায়ক আজিজুলও। ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দিয়েছেন সামিউন বশির রাতুলও। ফরিদ হাসান ফয়সাল লেগ স্পিলে ক্যাচ দেন ১ রান করে। আল ফাহাদ হয়েছেন রান আউট।
শেষ স্বীকৃত ব্যাটার রিজান হোসেনও বড় শটের নেশায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৫ রান করে। এরপর বাংলাদেশ আর বেশিদূর এগোতে পারেনি। তারা অল আউট হয় ১৪৬ রানে। ফলে ১৮ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
এর আগে টস জিতে বোলিং করতে নেমে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন আল ফাহাদ। ইনিংসের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে আয়ুশ মাত্রেকে ফেরান তিনি। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট ডেলিভারিতে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন মাত্রে। তবে টাইমিং না হওয়ায় কাভারে কালাম সিদ্দিকী অ্যালিনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১২ বলে ৬ রান করা ভারতের অধিনায়ক।
পরের বলে ফাহাদ আউট করেছেন ভেদান্ত ত্রিভেদীকেও। ডানহাতি পেসারের বলে ড্রাইভ করার চেষ্টায় আউট সাইড এজ হয়ে স্লিপে রিফাত বেগকে ক্যাচ দিয়েছেন। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে হ্যাটট্রিকের সুযোগ ছিল ফাহাদের। তবে বাংলাদেশের পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলারই চেষ্টা করেননি ভিহান মালহোত্রা।
ভারতীয় এই ব্যাটারকে আউট করেছেন আজিজুল হাকিম তামিম। আজিজুলের বলে আউট সাইড এজ হয়ে স্লিপে জাওয়াদ আবরারকে ক্যাচ দিয়েছেন ভিহান। ফলে ৫৩ রানে নিজেদের তৃতীয় উইকেট হারায় ভারত। যদিও একপ্রান্ত আগলে রেখে ভারতের রান বাড়াতে থাকেন সূর্যবংশি। তিনি ৩০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।
চতুর্থ উইকেটে ভারতের হাল ধরেন সূর্যবংশী ও অভিজ্ঞান কুন্ডু। দুজনে মিলে যোগ করেন ৬২ রানের জুটি। এই জুটি ভেঙেছেন ইকবাল হোসেন ইমন। বড় শটের নেশায় ভারতীয় এই ব্যাটার ব্যক্তিগত ৭২ রানে ধরা পড়েন ফাহাদের হাতে।
ইমন আউট করেছেন হারভানশ পাঙ্গালিয়াকেও। ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ২ রান করা এই ভারতীয় ব্যাটারের ক্যাচ নিয়েছেন রিফাত বেগ। এমন বিপর্যয়ের মাঝেও একপ্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ভারতীয় ব্যাটার কুন্ডু। তবে দারুণ খেলতে থাকা কানিশক চৌহানকে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আজিজুল।
ভারতীয় এই ব্যাটারের ক্যাচ মিড উইকেটে নিয়েছেন আব্দুল্লাহ। ৩৯তম ওভারের পর বৃষ্টির কারণে আবারও ম্যাচটি বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টা খানের পর আবারও শুরু হয় খেলা। তবে এক ওভার কমে যায় খেলার। বৃষ্টির পরই বাংলাদেশ উইকেট তুলে নেয় আমব্রিস আরএস। তিনি আউট হয়েছেন পারভেজ হোসেন জীবনের শিকার হয়ে ৫ রান করে।
খিলান প্যাটেলকে নিজের শিকার বানিয়েছেন ফাহাদ। তার বলে ফরিদ হাসান ফয়সালের হাতে ধরা পড়েছেন ভারতীয় এই ব্যাটার। ফলে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। অভিজ্ঞানকে অন্তত তিনবার জীবন দিয়েছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। ৮০ রান করা ভারতীয় এই ব্যাটারকে আউট করেছেন ফাহাদ। এরপর দীপেশ দেভেন্দ্রানকে আউট করে ৫ উইকেট পূরণ করেন ফাহাদ। আর তাতেই ২৩৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারত।