জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৫০ রান। টুর্নামেন্টের আগের তিন ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ১২৯ রান, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। তাই দেড়শ রানের লক্ষ্য পেরোতে ব্যাটিংয়ে নিজেদের সেরা সামর্থ্য দেখাতে হতো। কিন্তু বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থতার পর ব্যাটিংয়েও হতাশ করেছে বাংলাদেশ।
শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না। উদ্বোধনী জুটিতে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মিলে যোগ করেন ২৬ রান। ষষ্ঠ ওভারে ১৪ রান করে জুয়াইরিয়া ফেরার পর কিছুক্ষণ পর আউট হন দিলারাও, করেন ২৪। ৩৫ রানে দুই উইকেট হারানোর পর সোবহানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানা জ্যোতি প্রতিরোধ গড়েন।
তবে এই জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩৪ বলে ৩১ রান যোগ করার পর ১৭ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মোস্তারি ১৮, জ্যোতি ১৯ ও শারমিন আক্তার ১ রান করে ফিরলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দল। স্বর্ণা আক্তার ১৮ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকলেও তা যথেষ্ট হয়নি। ২০ ওভারে সাত উইকেটে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ভারতের হয়ে দীপ্তি শর্মা ২৬ রানে নেন তিন উইকেট।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতেই সুলতানা খাতুনের স্পিনে ৫ বলে ২ রান করে ফেরেন স্মৃতি মান্ধানা। এরপর শেফালি ভার্মা ও প্রতিকা রাওয়াল মিলে ভারতের ইনিংস সামলান। ৪৪ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ার পর ২৪ বলে ২০ রান করে প্রতিকা ফিরলে জুটি ভাঙে।
ভারতের ইনিংসে সবচেয়ে বড় ভূমিকা শেফালির। একাধিকবার জীবন পাওয়া এই ব্যাটারই ভারতকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। মারুফা আক্তারের বলে মিড অনে এবং সুলতানা খাতুনের বলে সীমানার কাছে তাঁর দুটি ক্যাচ মিস করে বাংলাদেশ। পরে তাঁকে রানআউট করার সুযোগও হাতছাড়া করে ফিল্ডাররা।
সুযোগ পেয়েও শেফালিকে থামাতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সুলতানা খাতুনের বলে ফেরার আগে ৪০ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও তিনটি ছক্কা। অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর ২৮ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। রিচা ঘোষ করেন ২১ রান।
বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা খাতুন ৩৯ রানে ২ উইকেট নেন। মারুফা আক্তার, রাবেয়া খান ও নাহিদা আক্তার নেন একটি করে উইকেট। তবে বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত ৪০ রানের হার নিয়ে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে জ্যোতিদের, আর ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত।