জিম্বাবুয়ের সৌন্দর্য, দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও আতিথেয়তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরারও দারুণ সুযোগ এই বিশ্বকাপ। যারা খেলা দেখতে জিম্বাবুয়েতে যাবেন, তাদের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন রাজা।
'সিক্সার’ নামের একটি মোবাইল ক্রিকেট গেমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজা বলেন, 'প্রত্যেক ক্রিকেটারই বিশ্বকাপ খেলে অবসরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। আমার ক্যারিয়ারও শেষের দিকে। এমন সময়ে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য আশীর্বাদ।'
বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট নিয়েও ইতিবাচক রাজা। এবারের পরিকল্পনায় প্রথম রাউন্ডে তিন দলের লড়াই থেকে একটি দল পরের ধাপে উঠবে। সেখানে যোগ দেবে সরাসরি জায়গা পাওয়া ১১ দল। এরপর ছয় দলের দুটি গ্রুপ, সুপার সেভেন এবং শেষ পর্যন্ত নকআউট পর্বের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন। রাজা বলেন, 'সুপার সেভেনের ধারণাটি আমার ভালো লেগেছে। যারা ভালো খেলবে, তাদের বিশ্বকাপে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত।'
তবে আয়োজক হয়েও বিশ্বকাপে খুব বেশি ঘরের মাঠের সুবিধা পাওয়া কঠিন বলে মনে করেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। তার ভাষায়, 'আমরা ঘরের মাঠের সুবিধা নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে আইসিসির টুর্নামেন্টে সেটা বেশ কঠিন, কারণ পিচ প্রস্তুতিসহ অনেক কিছুই আইসিসির নিয়ন্ত্রণে থাকে। তারপরও যেখানে ন্যায্য সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে, আমরা তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।' জিম্বাবুয়ের লিগ পর্বের ম্যাচগুলো হবে হারারে, বুলাওয়ে ও ভিক্টোরিয়া ফলসের নতুন মোসি-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
নতুন স্টেডিয়ামটি বিশ্বকাপের বাড়তি আকর্ষণ হবে বলেও আশা রাজার। সেখানে আগামী ২৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ে-ভারত ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনা হওয়ার কথা। ভেন্যুটি নিয়ে রাজা বলেন, 'ক্রিকেট গুরুত্বপূর্ণ, তবে মাঠের বাইরেও ভিক্টোরিয়া ফলসে দেখার মতো অনেক কিছু আছে। জলপ্রপাতের শব্দে শান্তিতে ঘুমানো, সুন্দর সূর্যাস্ত, অসাধারণ মানুষ ও আতিথেয়তা সব মিলিয়ে জায়গাটি দারুণ অভিজ্ঞতা দেবে।'
ভবিষ্যতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১২ দল অন্তর্ভুক্ত হলে জিম্বাবুয়েরও সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে আলোচনায় থাকা এই প্রস্তাব কার্যকর হলে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে জিম্বাবুয়েও প্রতিযোগিতাটিতে জায়গা পেতে পারে। এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রাজা বলেন, 'জিম্বাবুয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হলে আমি সবার আগে সমর্থন জানাব। শুরুতে আমরা ভালো করতে পারি বা না পারি, একটা বিষয় নিশ্চিত আমাদের ক্রিকেটের উন্নতি হবে এবং সব সংস্করণেই পারফরম্যান্স আরও ভালো হবে।'
তবে অবসরের পর এমন সুযোগ এলেও আর ফিরবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন রাজা। রাজা বলেন, 'আমি কি প্রলুব্ধ হব? না। জীবনের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত। অবসরের ঘোষণা দিয়ে পরে আবার তা ফিরিয়ে নেওয়ার মানুষ আমি নই।'