২০১৯ সালে শুরু হওয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত নয়টি দল অংশ নিচ্ছে। দুই বছরের আসরে প্রতিটি দল ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে, যার তিনটি ঘরের মাঠে এবং তিনটি প্রতিপক্ষের মাঠে। তবে ভবিষ্যতে ১২ দলকে জায়গা দিতে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজকেও প্রতিযোগিতার অংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মতো দলগুলোর জন্য টেস্ট খেলার সুযোগ বাড়বে।
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজের আগে ডারবানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গ্রিনবার্গ। সেখানে ১২ দলের পরিকল্পনা নিয়ে ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, পরের দুই বছরের জন্য এটাই হতে যাচ্ছে। প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই সংখ্যাটা ১২ করা হচ্ছে।'
তবে এর পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। গ্রিনবার্গের মতে, সব দেশের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। কারণ শুধু একটি টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করলেই খরচ শেষ হয় না; মানসম্মত টেস্ট ক্রিকেটার তৈরি করতে ঘরোয়া কাঠামো, কোচিং ও উন্নয়ন ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, 'টেস্ট ক্রিকেট খেলা খুব ব্যয়বহুল। এখানে শুধু ম্যাচ আয়োজনের খরচের কথা বলছি না। লাল বলের ক্রিকেটার তৈরির জন্য একটি পুরো কাঠামোয় বিনিয়োগ করতে হয়। আপনি হঠাৎ করে ১১ জন খেলোয়াড় খুঁজে নিয়ে টেস্ট খেলতে পারবেন না।'
এই বাস্তবতা থেকেই ভবিষ্যতে টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখছেন গ্রিনবার্গ। তার মতে, কোনো কোনো দেশ হয়তো নিজেদের মাঠে টেস্ট কমিয়ে বিদেশে বেশি খেলবে। আবার কারও পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। আইসিসি থেকে পাওয়া আয় কমে গেলে কিংবা নিজেদের ভবিষ্যৎ সফরসূচি থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব না এলে এই চাপ আরও বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া অবশ্য টেস্ট ক্রিকেটে বড় সিরিজ ধরে রাখার পক্ষে। ইংল্যান্ড ও ভারতের বাইরে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষেও পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে চায় তারা। তবে দুই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সময়সূচি কাছাকাছি হওয়ায় সেটি আয়োজন করা কঠিন।
গ্রিনবার্গ বলেন, 'আমরা সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে চাই। তাদের বাণিজ্যিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও তারা শক্তিশালী টেস্ট খেলুড়ে দেশ। আমরা চাই তারা টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাক।'