পিটারসেনের এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক জো রুটও। পিটারসেনের সঙ্গে ইংল্যান্ড দলে খেলা বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে রুটই সবশেষ ক্রিকেটার। ২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের সময় পিটারসেনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে ভারতের স্পিনসহায়ক কন্ডিশনে কীভাবে ব্যাট করতে হয়, সে বিষয়ে পিটারসেনের পরামর্শ রুটের ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগে আইসিসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুট পিটারসেনের ক্রিকেটীয় জ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন। আইসিসিকে রুট বলেন, 'তিনি খুবই জ্ঞানী। বিশেষ করে ব্যাটিং সম্পর্কে তার খুব ভালো ধারণা আছে এবং তার মধ্যে প্রচুর উদ্যম রয়েছে। আমার মনে হয়, দলের জন্য তিনি দারুণ একজন সংযোজন হবেন এবং তাকে কাজে যুক্ত হতে দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।'
পিটারসেনের স্পষ্টভাষী স্বভাব নিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেটে অতীতে নানা মত থাকলেও সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না রুট। বরং দলের ভেতরে ভিন্ন মত ও সৎ পরামর্শ থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। রুট বলেন, ' আপনি চান মানুষ তাদের সৎ পরামর্শ দিক। তার মতামত বা ম্যাচ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে না চাইলে তাকে দলে যুক্ত করারই বা কারণ কী? তিনি ক্রিকেট সম্পর্কে খুবই জ্ঞানী, বিশেষ করে ব্যাটিং সম্পর্কে তার দারুণ বোঝাপড়া আছে এবং তার মধ্যে প্রচুর উদ্যম রয়েছে।'
রুট নিজেও পিটারসেনকে কাছ থেকে দেখে উপকৃত হয়েছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে পিটারসেনের সঙ্গে নেটে সময় কাটানো, তার অনুশীলন দেখা এবং ব্যাটিং নিয়ে পরামর্শ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। স্পিনের বিপক্ষে পা ব্যবহার, বলের সঙ্গে ও বিপরীতে শট খেলা এবং ফিল্ড অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের কৌশল বুঝতে পিটারসেন তাকে সাহায্য করেছিলেন।
রুট বলেন, 'আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ভারতের সেই প্রথম সফরে নেটে তার সঙ্গে থাকার চেষ্টা করতাম, কীভাবে অনুশীলন করতেন দেখতাম এবং পরামর্শ চাইতাম। তিনি সবসময় খুব খোলামেলা ও সৎ ছিলেন এবং আমার খেলাটা কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে বিষয়ে অনেক সাহায্য করেছেন।'
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পিটারসেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের আসন্ন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেই কাজ শুরু করবেন। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও দলের সঙ্গে থাকবেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বেড়ে ওঠা পিটারসেনের সেখানকার পরিবেশ ও ক্রিকেট সম্পর্কে অভিজ্ঞতাও ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দলের জন্য বিশেষভাবে কাজে লাগবে বলে মনে করছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।
তবে, রুটের মনোযোগ এখন পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের সামনে এবার ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করার সুযোগ। পাকিস্তানকে সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে নারাজ রুট।
রুট বলেন, 'পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ পেয়েছি। এক দল খুব ভালো আর অন্য দল খারাপ,এভাবে বিষয়টি দেখা ঠিক নয়। আমরা যেভাবে খেলেছি এবং পরিস্থিতি ও পিচ দ্রুত বুঝে নিয়েছি, তাতেই তারা ম্যাচে নিজেদের সেভাবে ঢোকানোর সুযোগ পায়নি। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দলে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে, তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।'