‘ওকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ করুন’, ব্রেভিসকে নিয়ে ডি ভিলিয়ার্স

সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট
ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফাইল ছবি
ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সাউথ আফ্রিকার হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের নতুন করে জানান দিচ্ছেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। নামিবিয়ার বিপক্ষে ৭৫ রানের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একই রান করেছেন তিনি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের ইনিংসটি ছিল আরও বিধ্বংসী,মাত্র ৩২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে দলকে সাত উইকেটের জয় এনে দেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার। টানা দুই ম্যাচে এমন পারফরম্যান্সের পর তাকে নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নজর কাড়ার সময় থেকেই তাকে ‘বেবি এবি’ নামে ডাকা শুরু হয়। আইসিসিও তখন উল্লেখ করেছিল, ব্রেভিসের ব্যাটিং স্টাইল অনেকটাই ডি ভিলিয়ার্সকে খুঁজে পাওয়া যায়। ব্রেভিসের সাম্প্রতিক এমন ফর্মের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স।

ডি ভিলিয়ার্স নিজে অবসরের সময়েও ব্রেভিসের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং এখনো ব্যক্তিগতভাবে তাকে কিছুটা পরামর্শ দেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘আমি অবসরে তার সঙ্গে কিছুটা কাজ করি। ও এখনো তরুণ। অনেকেই তাকে এমনভাবে দেখে, যেন তার সেরা সময় প্রায় শেষ। অথচ সে এখনো বিশের কোঠার শুরুর দিকে। এই তরুণের সামনে এখনো অনেক ক্রিকেট পড়ে আছে।’

ব্রেভিসের ব্যাটিং পজিশন নিয়েই ডি ভিলিয়ার্সের আপত্তি। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়কের মতে, কখনো ওপেনিং, কখনো তিন নম্বর, আবার কখনো পাঁচ বা ছয় নম্বরে ব্যাট করানোর ফলে ব্রেভিসের স্থিরতা নষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি তিন নম্বরে নেমেই ৩২ বলে ৭৫ রান করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমি আশা করি কোচরা তাকে নিয়ে আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না। তাকে টপ অর্ডারে খেলান। পাঁচে, ছয়ে পাঠিয়ে আবার ওপেন করানো, এরপর তিনে পাঠানো, এভাবে চলা উচিত নয়।'

ব্রেভিসের জন্য কোন জায়গা সবচেয়ে ভালো, সেটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে তিন নম্বরে এবং টেস্টে চার নম্বরে খেলানো উচিত তাকে। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে তিন নম্বরে, ওয়ানডেতেও তিন নম্বরে এবং টেস্টে চার নম্বরে ব্যাট করানো উচিত। তাকে বেছে নিন, ওই জায়গায় রাখুন এবং সেখানেই খেলতে দিন। সে আপনাকে অনেক ম্যাচ জেতাবে।’

ব্রেভিসকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথাও বলেছেন ডি ভিলিয়ার্স। নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, একজন ব্যাটারের সেরা সময় আসতে সময় লাগে। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি, ধরো তোমার বয়স ৩০ বছর, ২৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। আমার সেরা সময় তখনই এসেছিল। সে এখনো সেই সময় থেকে অনেক দূরে। বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে আপনি নিজের খেলাটা আরও ভালোভাবে বুঝতে শুরু করেন। সে এখনো সেই পর্যায়ের কাছাকাছিও যায়নি।’

তরুণ বয়সে নিজের পারফরম্যান্সও যে সব সময় ধারাবাহিক ছিল না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। তাই ব্রেভিসের ক্ষেত্রেও কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান তার। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘মানুষ এখন বলতে শুরু করেছে, আমরা তাকে নিয়ে একটু ক্লান্ত, সে ধারাবাহিক নয়। আমিও তরুণ বয়সে ভীষণ অস্থির ছিলাম। তাই ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে নিয়ে আমি অপেক্ষা করছি। কারণ আমি জানি, তার কাছ থেকে সামনে কী আসতে পারে।’

আরো পড়ুন: