‘১৪ হাজার রান করার একটা কারণ আছে’, সমালোচকদের জবাব রুটের

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজ
জো রুট, ফাইল ছবি
জো রুট, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
লর্ডসে পাকিস্তানকে ১৯৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। জো রুটের দ্বিতীয় দফার অধিনায়কত্বের শুরুটাও তাই হয়েছে দুর্দান্তভাবে। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে জয়ের পর লর্ডসেও দাপুটে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তবে দলের সাফল্যের মাঝেও রুটের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

চলতি মৌসুমে ব্যাট হাতে নিজের ছায়া হয়েই আছেন রুট। এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন তিনি, গড় ২৯.৪৪। ঘরের মাঠে কোনো মৌসুমে এর চেয়ে কম গড় নিয়ে শেষ করেছেন মাত্র একবার। আরও চিন্তার বিষয়, সর্বশেষ সাত টেস্টের ১২ ইনিংসের নয়টিতেই এলবিডব্লিউ হয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। লর্ডস টেস্টেও দুই ইনিংসে ৪ ও ২৪ রান করে দুবারই এলবিডব্লিউ হয়েছেন।

এসব পরিসংখ্যান রুটকে খুব একটা চিন্তায় ফেলছে না। বরং দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং ১৪ হাজারের বেশি টেস্ট রানকে নিজের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ মনে করছেন তিনি। লর্ডস টেস্টের পর বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুট বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে এই খেলাটা খেলছি। সব সময়ই এসব সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করার উপায় পেয়েছি এবং এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। ১৪ হাজার রান করার একটা কারণ আছে, প্রায় ১৫ বছর এই পর্যায়ে খেলারও একটা কারণ আছে।’

এলবিডব্লিউ হওয়ার ধারাবাহিকতা অবশ্য রুটের জন্য হতাশার। তবে তার মতে, এর সবটাই ব্যাটিংয়ের দুর্বলতার কারণে নয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তও তার বিপক্ষে গেছে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি এবারের ইংলিশ মৌসুমে বল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সুইং করায় ব্যাটারদের কাজ কঠিন হয়েছে বলেও মনে করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। রুট বলেন, ‘অবশ্যই এটা হতাশাজনক যে এমন একটা ধারা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সম্ভবত চারটি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ছিল, যেগুলো অন্যদিকে যেতে পারত। আর বলও সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নড়াচড়া করছে।’

এই কঠিন পরিস্থিতির পেছনে এবারের ডিউক বলের ভূমিকা আছে বলেও মনে করছেন রুট। তার দাবি, গত মৌসুমের তুলনায় বলের আবরণে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে বল পিচে বেশি দাগ ফেলছে এবং ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। রুট বলেন, ‘এই গ্রীষ্মে বলগুলো ভিন্ন মনে হয়েছে। আমার মনে হয় ল্যাকার (আকার) আলাদা। বলের আকার নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এগুলো পিচের ওপরও বেশি দাগ ফেলছে।’

তবে নিজের ব্যাটিং নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না রুট। বরং সমস্যা বুঝে সেটি কাটিয়ে ওঠার ওপরই জোর দিচ্ছেন তিনি। এছাড়া সিরিজ জয়ের পর দলের উদযাপন নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।

রুট বলেন, ‘এই খেলায় কাউকে কিছুই বিনা পরিশ্রমে দেওয়া হয় না। সবকিছুর জন্যই পরিশ্রম করতে হয়। আমাকে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে, আর আমি সেটাই করব। সব সময়ই আপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, নতুন কিছু শিখতে ও নিজেকে বদলাতে হবে। এসব থেকে আমি কখনো পিছিয়ে আসিনি, সামনেও আসব না। আমি নিশ্চিত, এই সময়টা পেরিয়ে যাব। টেস্ট ম্যাচ জেতা কঠিন, টেস্ট সিরিজ জেতা আরও কঠিন। তাই এটা উপভোগ করো, উদযাপন করো। তবে সেটা দায়িত্বশীল ও পরিণতভাবে।’

আরো পড়ুন: