ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বলে জিততেই হবে এমন চাপ নেই: রাবাদা

সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রোটিয়াদের ওপর প্রত্যাশা থাকবে বেশি। তবে সেই প্রত্যাশাকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন না দলের তারকা পেসার কাগিসো রাবাদা। বরং ঘরের মাঠের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দুর্গ রক্ষার লক্ষ্যেই বিশ্বকাপে নামতে চান তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে আগামী বছর বসবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ১৪তম আসর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিন সংস্করণেই দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্সে এসেছে ধারাবাহিকতা। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০২৫ সালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা।

এমন সাফল্যের পর বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে প্রত্যাশাও বেড়েছে। তবে রাবাদা মনে করেন, ঘরের মাঠে খেলার কারণে দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে না। জোহানেসবার্গে বিশ্বকাপের ভেন্যু ও ব্র্যান্ড উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘরের মাঠে খেলছি বলে বিষয়টির সঙ্গে অবশ্যই অন্যরকম একটা ব্যাপার জড়িয়ে আছে। তবে আমার কাছে এটি অনেকটা স্বাধীনতার মতোও। ঘরের মাঠে খেলছি বলে আমাদের জিততেই হবে এমন চাপ আমি অনুভব করছি না।’

ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতিকে অন্যভাবেও দেখছেন রাবাদা। রাবাদা বলেন, ‘আমরা নিজেদের মাঠে খেলব এবং নিজেদের দুর্গ রক্ষা করতে নামব আমার কাছে বিষয়টি এমনই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের জার্সি ও দলের প্রতীককে প্রতিনিধিত্ব করা।’

২০১৯ ও ২০২৩ সালের সর্বশেষ দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন রাবাদা। তবে বিশ্বকাপের কথা উঠলেই তাঁর মনে পড়ে যায় আরও পুরোনো একটি স্মৃতি। ১৯৯২ সালে জন্ম নেওয়া এই পেসারের কাছে বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণার মুহূর্ত পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামের সেই বিখ্যাত স্পেল।

১৯৯২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়াসিমের দুর্দান্ত বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান। বোলার হিসেবে সেই পারফরম্যান্সই রাবাদার মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে।

রাবাদা বলেন, ‘অতীতের বিশ্বকাপের যে মুহূর্তটি আমি কখনো ভুলব না, সেটি একজন বোলার হিসেবে অবশ্যই ওয়াসিম আকরামের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালের স্পেল। তিনি স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে নিজের দেশের হয়ে ম্যাচটি জিতিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর মধ্যে ছিল দারুণ আবেগ ও দক্ষতা।’

ওয়াসিমের বোলিংয়ের প্রভাবের কথা বলতে গিয়ে রাবাদা আরও বলেন, ‘তিনি ছিলেন দ্রুতগতির, অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন এবং তাঁর মধ্যে আলাদা একটা উপস্থিতি ছিল। মনে হচ্ছিল, তিনি শুধু ম্যাচ খেলতে নয়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে মাঠে এসেছেন।’

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর দক্ষিণ আফ্রিকার আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বলে মনে করেন রাবাদা। তাঁর মতে, বড় ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ ইতিমধ্যেই দিয়েছে দল।

রাবাদা বলেন, ‘আমরা দেখিয়েছি যে ফাইনাল ও সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে গিয়ে খেলতে পারি। এখন শুধু শেষ ধাপটি পেরোতে হবে। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, বিশ্বাসও অবশ্যই আছে। এখন দরকার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।’

আরো পড়ুন: