জাকির হাসান-শাহাদাত হোসেন দিপুদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন ইকবাল হোসেন ইমনরা। মিরপুরে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্সের হয়ে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছেন সাব্বির রহমানরা। হোম অব ক্রিকেটে এখনো অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ওয়ানডে এবং সাদা পোশাকের সিরিজ খেলতে কদিন পর তাদের গন্তব্য সাউথ আফ্রিকা।
অস্ট্রেলিয়াতে টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি খেলতে যাবে বাংলাদেশ ইমার্জিং। ১২ আগষ্ট থেকে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স গ্রাউন্ডে মালয়েশিয়ার সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। অর্থাৎ পাঁচ দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন অন্তত ৭৫ জন ক্রিকেটার। তবে পাঁচটা টিম লিস্টের কোথাও নেই আকবর আলী। অথচ কদিন আগেও জাতীয় দলের বিবেচনায় ছিলেন ডানহাতি এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
কদিন আগে হওয়া জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাবেন বলে খবর বেরোয়। অথচ আকবরকে রাখা হয়নি বয়সভিত্তিক কিংবা জাতীয় দলের বাইরের বাকি চার দলের একটিতেও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিভিন্ন প্রোগ্রামের একটিতেও সুযোগ না পেয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। আকবরকে অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন নির্বাচকরা। খারাপ লাগলেও বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন তিনি।
ক্রিকফ্রেঞ্জির সঙ্গে ফোনালাপে আকবর বলেন, ‘সত্যি কথা বললে একটু তো খারাপ লেগেছেই। কিন্তু আমি যখন জানতে পেরেছি কোনো দলেই আমাকে রাখা হয়নি তখনই আমি নির্বাচকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছে জানতে চেয়েছি আমাকে নিয়ে কী চিন্তা করছে, আমার কাছ থেকে তারা কী প্রত্যাশা করছে।’
‘আমাকে তখন তারা একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। আমাকে বুঝিয়েছে আমার কোথায় ঘাটতি আছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে কিংবা আমার কাছ থেকে কী ধরনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছে। আমাকে কিছু জিনিসে উন্নতি করার পরামর্শ দিয়েছে, আমি সেটা করার চেষ্টা করছি।’
২০২৫ সালে ব্যাট হাতে সময়টা বেশ ভালো কেটেছে আকবরের। সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে ব্যাট হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। ৭০ গড়, ১১৩ স্ট্রাইক রেট ও এক সেঞ্চুরিতে ডানহাতি ব্যাটার করেছিলেন ২১০ রান। একই বছর রংপুর বিভাগকে এনসিএলের প্রথম শ্রেণির সংস্করণ ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে রংপুর বিভাগকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন আকবর।
শিরোপা জেতার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তিনি। ইমার্জিং দলের সবশেষ সিরিজে অবশ্য খুব বেশি সুযোগ মেলেনি তার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২৭ রান। গত ডিপিএলে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ১০ ম্যাচে করেছিলেন ২১৭ রান। একজন ক্রিকেটার কেন বাদ পড়েছেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সেটার ব্যাখ্যা খুঁজে পান না। অনেক ক্রিকেটারই নানান সময় এমন অভিযোগ করেছেন।
আকবর অবশ্য নির্বাচবদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘তারা (নির্বাচকরা) আমাকে যেভাবে পুরো বিষয়টা ব্যাখ্যা করেছেন তাতে আমিও সন্তুষ্ট। কারণ অনেক কিছু আমি নিজেও বুঝতে পারছিলাম। আমার ধারণা আমাকে নিয়ে তাদের বড় কোনো পরিকল্পনা আছে। এজন্যই হয়ত আমাকে ওই জিনিসগুলো উন্নতি করতে বলেছেন।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সুযোগ না পাওয়ায় আপাতত ইংল্যান্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন আকবর। ব্রিটিশ মুল্লুকে খেলছেন ক্লাব ক্রিকেট। পাশাপাশি নিজেকে ফেরাতে চেষ্টার কমতি রাখছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। নির্বাচকদের সঙ্গে আলাপের পর নিজের সমস্যা সমাধানে দেশীয় বেশ কয়েকজন কোচের সঙ্গে আলাপ করেছেন তিনি। এ ছাড়া ইংল্যান্ডেও কোচদের সঙ্গে অনুশীলনের পরিকল্পনা করছেন। আকবরের বিশ্বাস, সমস্যা কাটিয়ে দ্রুতই ফিরবেন তিনি।
আকবর বলেন, ‘সমস্যাগুলো নিয়ে আমার কাছের যারা কোচ আছেন তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারাও কিছু ফিডব্যাক দিয়েছেন, সামনে হয়ত আরও দেবেন। এখানেও (ইংল্যান্ড) কোচদের সঙ্গে কাজ করব। আশা করছি দ্রুতই ফিরতে পারব।’