‘বোলারদের টিকে থাকতে বিশেষ রহস্য থাকতেই হবে’

সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট
কাগিসো রাবাদা
কাগিসো রাবাদা
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকেট এখন পুরোপুরি ব্যাটারদের খেলা। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাপক প্রসার ঘটার পর বোলাররা রীতিমতো অসহায় সাদা বলের ক্রিকেটে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটারদের সাথে লড়াইয়ে টিকে থাকতে বোলারদের জন্য সামনে আরো বেশি চ্যালেঞ্জ দেখছেন সাউথ আফ্রিকান পেসার কাগিসো রাবাদা। উইকেট, বাউন্ডারি সবকিছুই ব্যাটারদের পক্ষে থাকায় বোলারদের গতানুগতিক ভালো লেন্থও এখন কাজে আসছে না বলে মনে করেন রাবাদা।

‎বাণিজ্যিক দিক ও দর্শক চাহিদাকে মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত ব্যাটারদের অনুকূলে মাঠের ২২ গজ তৈরি করা হচ্ছে। সেই সাথে ক্রিকেটের আধুনিক সকল নিয়মই এসেছে ব্যাটারদের অনুকূলে। ওয়ানডে ক্রিকেটে দুই প্রান্তে দুই নতুন বল, ৪০ ওভার পর্যন্ত ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে চার ফিল্ডার রাখতে পারার বাধ্যবাধকতাসহ প্রায় সব নিয়মই প্রতিনিয়ত বোলারদের অসহায় বানিয়েছে ব্যাটারদের সামনে।

‎সেই সাথে বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট প্রচুর পরিমাণে খেলা হওয়ায় ব্যাটার ও বোলারদের মনোজগতে এসেছে বড় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে টেস্ট ক্রিকেটেও। ওয়ানডেতে চারশো রান কিংবা টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ রান এখন অনেকটাই নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা। তাই এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে গগতানুগতিকতার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে বোলারদের, এমনটাই মনে করেন রাবাদা।

‎'ফাস্ট বোলিং কার্টেল' নামক একটি পডকাস্টে রাবাদা বলেন, '৬০ মিটারের বাউন্ডারির সাথে উইকেটেও তেমন কোনো বাউন্স থাকে না। বলও ব্যাটে দ্রুত আসে। এমন পরিস্থিতিতে বোলারদের টিকে থাকতে বিশেষ কোনো রহস্য থাকতেই হবে।'

‎আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যাটারদের জন্য কাজটা আরো সহজ করে দিয়েছে বলে মত রাবাদার। বোলারদের বোলিং বিশ্লেষণের ফলে তারা সব ধরণের ডেলিভারি মোকাবেলার কৌশলও রপ্ত কর‍তে পারছে বলে দাবী তার, 'আপনি যাই করেন, মানুষ এখন সব কিছুই বিশ্লেষণ করে ফেলছে। ব্যাটসম্যানরা বোলিং মেশিনে অনুশীলন করে যেকোনো লেন্থের বল সীমানার বাইরে পাঠাবার কৌশল রপ্ত করে ফেলছে।'

‎বোলারদের জন্য এই কঠিন সময়ে রাবাদার জন্য সবচেয়ে কঠিন ব্যাটার ছিলেন বিরাট কোহলি। বিরাট খুব নিরবভাবে বড় প্রভাব ফেলতেন উল্লেখ করে রাবাদা বলেন, 'বিরাট সম্ভবত সবচেয়ে প্রথাগত ব্যাটার। সে সবসময় মারমুখী হয়ে খেলবে এমনটা নয়। কিন্তু আপনি যখনই স্কোরবোর্ডের দিকে তাকাবেন তখন দেখবেন কত বড় প্রভাব ফেলেছে সে। তাকে আউট করতে তার উইকেটটা অর্জন করে নিতে হবে আপনাকে।'

‎বিরাটকে সবচেয়ে কঠিন ব্যাটারের তকমা দিলেও সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটার হিসেবে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের কথা উল্লেখ করেন রাবাদা, 'যদি বোলিংয়ে সামান্য ভুল হতো, তবেই সে সেই ভুলের শাস্তি দিতো। মাঠের অদ্ভুত সব জায়গা দিয়ে সে রান বের করতো। তাকে আউট করতে একদম নিখুঁত হতে হতো।'

‎টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে প্রমাণ করলেও সাদা বলের ক্রিকেটে এখনো টেস্টের মত সাফল্য পাননি সাউথ আফ্রিকার এই পেসার। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরে অভিষেকের পর থেকে ১০৬ ওয়ানডে খেলে ২৭.৪৬ গড়ে ১৬৮ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। অন্যদিকে, ৭৯ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে রাবাদার উইকেট ৮৩ টি, ইকোনমি ৮.৪১।

আরো পড়ুন: