এদিকে পাকিস্তানের সামরিক মহল ও ইমরান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের দাবি, তাকে মুক্তি দেয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নেপথ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কথাবার্তা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের ভাষ্য, 'পাকিস্তানকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের বড় ধরনের ক্ষতি করেছে।'
ইমরান খানের মুক্তির একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। চলতি বছরের শুরুতে তার চোখে অস্ত্রোপচার হয়। পরিবারের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম বলেন, 'নীরব থাকার সুযোগ আর নেই। আমাদের বাবা সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘ কারাবাসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। অথচ তার সঙ্গে নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে যোগাযোগের সুযোগও আমাদের দেয়া হচ্ছে না।'
তবে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা হলে ইমরান খানকে দেশ ছাড়তে, রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে এবং প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেরই বিশ্বাস, এমন শর্ত মেনে নেয়ার মানুষ তিনি নন।
মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথও একই মত প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, 'তিনি খুবই অনড় স্বভাবের মানুষ। এমন শর্ত তিনি মেনে নেবেন বলে আমার মনে হয় না। তবে ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে আমি চাই না, তিনি কারাগারেই একা মৃত্যুবরণ করুন।'