সমালোচনার পাশাপাশি সিরিজ চলাকালে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। এ জন্য উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ সার্ভিসের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছে দেশটির ক্রিকেট সংস্থা, যাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ নির্বিঘ্নে আয়োজন করা যায়।
ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ কিয়েনও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান সহজ নয় বলে স্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, 'আফগান নারীদের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় সিরিজটি আয়োজন করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে নৈতিক অস্বস্তি কাজ করছে।'
দুই হাজার একুশ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলার ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পাশাপাশি খেলাধুলাতেও নারীদের অংশগ্রহণ কঠোরভাবে সীমিত করা হয়। নিরাপত্তার শঙ্কায় বহু নারী ক্রিকেটার দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এমন বাস্তবতায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে না, যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের প্রতিযোগিতায় দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রতিবাদকে সামনে রেখে উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ ও সমাবেশ করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে তাদের মুখপাত্রের ভাষায়, 'এটি এমনভাবে করতে হবে, যাতে অন্যদের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয় বা কোনো অপরাধ সংঘটিত না হয়। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।'
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র ফেলিক্স জ্যাকাঙ্কসের মতে, 'তালেবান এই সিরিজকে নিজেদের প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে চাইবে। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের নিশ্চিত করা উচিত, যেন এটি তাদের বিনা মূল্যের প্রচারণার সুযোগে পরিণত না হয়। একই সঙ্গে দর্শকেরা যেন আফগান নারীদের কথাও মনে রাখেন।'
অন্যদিকে বেলফাস্টভিত্তিক নারী অধিকার সংগঠনও প্রশ্ন তুলেছে, নারীদের অধিকার কঠোরভাবে সীমিত করা একটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা দলের বিপক্ষে খেলাই কতটা যুক্তিসংগত। সমালোচনা ও প্রতিবাদের আশঙ্কা থাকলেও সিরিজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। আগামী ৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজ।