দীর্ঘদিনের এই ক্যাম্পে খেলোয়াড়রা নিজেদের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে আলাদা করে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে মনে করেন ফখর। তার মতে, ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে যেসব বিষয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না, এই ক্যাম্পে সেগুলো উন্নত করার সুযোগ মিলছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে হাতে যথেষ্ট সময় থাকায় নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করার সুযোগও পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা।
পিসিবির ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির সাদা বলের ক্যাম্পে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফখর বলেন, ‘গত দুই-তিন মাস ধরে ক্যাম্প চলছে, যা খুবই ইতিবাচক। কোচিং স্টাফ এমন কিছু বিষয়ে কাজ করাচ্ছেন, যেগুলো ম্যাচ খেলতে খেলতে ঠিকমতো ধরা পড়ে না। একাডেমি আমাদের নিজেদের খেলার বিভিন্ন দিক উন্নত করার জন্য সময় ও পরিবেশ দুটোই দিয়েছে।’
সম্প্রতি পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা বাড়লেও সেটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন ফখর। তার বিশ্বাস, কঠিন সময় সব দলেরই আসে এবং পাকিস্তানের প্রতিভাবান পেস আক্রমণ দলকে আবারও সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে এই ক্যাম্প নতুন ক্রিকেটারদের নিজেদের সামর্থ্য দেখানোরও সুযোগ করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের ফিটনেস নিয়ে ফখর জানান, ‘আমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছি এবং ব্যাটিংও শুরু করেছি। আগামী ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে চাই।’
তরুণ ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গে ৩৫ বছর বয়সী এই ওপেনার বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এক-দুটি ভালো ম্যাচ খেলেই কাউকে জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত ভাবা ঠিক নয়। তার ভাষায়, ‘কোনো তরুণ যদি সাদা বলের দলে আমার জায়গা নেওয়ার মতো যোগ্য হয়, তাহলে কালই সে আসুক। তবে তাকে ধারাবাহিকতা, পারফরম্যান্স ও সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেট আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য অনেক।’
ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ফখর। তবে সেই আলোচনা প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। ‘ ফখর বলেন, 'দলের প্রয়োজনটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে, কিন্তু সব বিষয় গণমাধ্যমে বলা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা সবাই একই পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি।’
সবশেষে ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথাও জানান ফখর। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার অনেক ভালো স্মৃতি আছে আমার। সেখানকার বাউন্সি উইকেট আমার ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তাই ২০২৭ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’