লর্ডসে নামার আগে সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে শেষ আট ইনিংসে রোহিত করেছিলেন মাত্র ২৪১ রান। গড় ছিল ৩০.১২ এবং স্ট্রাইক রেট ৮৮.৬০। এই সময়ে তাঁর ছিল মাত্র একটি ফিফটি। এমন পরিস্থিতিতে লর্ডসে খেলেন ১১০ বলে ১৩৮ রানের অসাধারণ ইনিংস। এটি ছিল তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম সেঞ্চুরি এবং লর্ডসে প্রথম শতক। তবে তাঁর এই ইনিংসও ভারতকে জেতাতে পারেনি। ম্যাচ হেরে ১-২ ব্যবধানে সিরিজও হারতে হয়েছে ভারতকে।
ম্যাচ শেষে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়াকে (বিসিসিআই) দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিত বলেন, ‘আমার কাজ হলো ব্যাট হাতে মাঠে নেমে দেশের হয়ে এবং দলের হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করা। অভিষেকের পর থেকেই বাইরের অনেক কথা শুনে আসছি। যত দিন খেলব, তত দিন এসব চলবেই। তাই এগুলো নিয়ে আমি ভাবি না। আমার একমাত্র লক্ষ্য মাঠে দলের সাফল্যে অবদান রাখা।’
সমালোচনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাইরে আলোচনা থাকুক। আলোচনা না থাকলে মজাই নেই। আমার কাজ মাঠের ভেতরে, আর বাইরের মানুষের কাজ মাঠের বাইরে। আমি বিষয়টাকে এভাবেই দেখি।’
এই ম্যাচে বিরাট কোহলির সঙ্গে ১১৩ রানের জুটিও গড়েন রোহিত। ওয়ানডেতে এটি ছিল তাঁদের ২১তম শতরানের জুটি। এর মাধ্যমে তাঁরা কুমার সাঙ্গাকারা ও তিলকরত্নে দিলশানের ২০টি শতরানের জুটিকে ছাড়িয়ে সর্বকালের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তাঁদের সামনে এখন শুধু শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলীর ২৬টি শতরানের জুটি।
কোহলির সঙ্গে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো ক্যারিয়ার একসঙ্গে খেলেছি। তাই ওর সঙ্গে ব্যাটিং করা সব সময়ই দারুণ লাগে। আমরা একে অপরকে খুব ভালো বুঝি। ব্যাটিংয়ের সময় নানা বিষয় নিয়ে কথা বলি এবং কীভাবে দলকে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটাই ভাবি।’
নিজের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও সিরিজ হারায় হতাশ রোহিত। তাঁর মতে, ভারত ভালো ক্রিকেট খেললেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পিছিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘ফলাফল নিয়ে অবশ্যই হতাশ। বার্মিংহামে আমরা খুব ভালো খেলেছিলাম। কার্ডিফে ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে পারিনি। আর লর্ডসে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে হয়েছিল। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি, কিন্তু ২০-২৫ রান কম পড়ে গেছে।’
সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচে জসপ্রিত বুমরাহ না থাকায় ভারতের বোলিং আক্রমণ চাপে পড়ে। তবে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ বোলারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রোহিত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলারদের অনেকেই এখনও বেশি ওয়ানডে খেলেনি। তাই তাদের সময় দিতে হবে। আশা করি, এই ম্যাচ থেকে আমরা শিক্ষা নেব এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে আরও ভালো করতে পারব।’
তিনি যোগ করেন, ‘ইংল্যান্ডে খেলতে আমি সব সময়ই উপভোগ করি। এখানকার পরিবেশ, মাঠ ও উইকেট একজন ক্রিকেটারকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি সব সময় এমন চ্যালেঞ্জই চাই। ব্যক্তিগতভাবে ইনিংসটি উপভোগ করেছি, কিন্তু দলের হার আমাকে হতাশ করেছে। এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, পুরো দল হিসেবে কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’