রুটের অপরাজিত ৯৯ রানে সমতায় ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ড-ভারত সিরিজ
জো রুট, ফাইল ফটো
জো রুট, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ছিল মাত্র তিন রান, তখন অপরাজিত ৯৯ রানে নন-স্ট্রাইকে ছিলেন জো রুট। প্রসিধ কৃষ্ণার শর্ট বল পুল করে ডিপ স্কয়ার লেগে চার মেরে তখন ম্যাচ শেষ করেন গাস অ্যাটকিনসন। এতে সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থেমে যেতে হয় রুটকে। কার্ডিফে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে চার উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই স্বস্তিতে ছিল না ভারত। শুরুর জুটি ভাঙার আগে শুভমান গিল ৩০ বলে ৩১ রান করেন। রোহিত শর্মা ৪৭ বলে ২৬ রান করে ফিরলে চাপে পড়ে সফরকারীরা। ইশান কিশানও (১) বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। এরপর বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ার দলের হাল ধরেন।

তৃতীয় উইকেটে কোহলি ও শ্রেয়াসের জুটিতে আড়াইশ রানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ভারতের। ৩২তম ওভারে তিন উইকেটে ১৭৮ রান ছিল তাদের সংগ্রহ। এই সময় ৫০ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পথে প্রতিপক্ষের মাঠে একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের নতুন কীর্তি গড়েন কোহলি। তবে ৬৫ রান করে তার বিদায়ের পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।

কোহলির উইকেট পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের বোলাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। দ্রুত ফিরে যান ওয়াশিংটন সুন্দর (২), অক্ষর প্যাটেল (১) ও শিবম দুবে (০)। শেষ সাত উইকেট হারায় মাত্র ৫৫ রানে। শ্রেয়াস ৭১ বলে ৬৬ রান করলেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি। জসপ্রিত বুমরাহ ১৩ বলে অপরাজিত ২০ রান করেন। ছয় ওভার বাকি থাকতেই ২৩৩ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। ইংল্যান্ডের হয়ে গাস অ্যাটকিনসন ও জফরা আর্চার তিনটি করে উইকেট নেন।

সহজ ছিল না ২৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া। প্রথম চার ওভারেই দুই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। বেন ডাকেট ও জ্যাকব বেথেল দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর দায়িত্ব নেন জো রুট। তৃতীয় উইকেটে হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়লেও ১৬ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক। পরে স্যাম কারান ও জস বাটলারও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১২৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

এই অবস্থায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন রুট। ষষ্ঠ উইকেটে উইল জ্যাকসের সঙ্গে ৭২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। জ্যাকস ৩০ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং চালিয়ে যান রুট। গাস অ্যাটকিনসনকে সঙ্গে নিয়ে বাকি পথ পাড়ি দেন তিনি। অ্যাটকিনসন ১৬ বলে ২৩ রান করেন এবং তার চারেই নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের জয়।

রুট ১৩৩ বলে নয়টি চারে অপরাজিত ৯৯ রান করেন। একদিনের ক্রিকেটে টানা পঞ্চম ইনিংসে অর্ধশতক স্পর্শ করেন তিনি। একই সঙ্গে এই সংস্করণে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা প্রথম ইংল্যান্ডের ব্যাটার এবং সব দেশ মিলিয়ে ১৭তম ব্যাটার হিসেবে নাম লেখান। এই ইনিংসের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর একদিনের সিরিজে এখন ১-১ সমতা বিরাজ করছে। তিন ম্যাচের এই সিরিজের শেষ ও নির্ধারণী লড়াই অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুন, লর্ডসে।

আরো পড়ুন: