স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় এক অনুষ্ঠানে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। এই তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে আইসিসি হল অব ফেমে সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে। গাঙ্গুলী ভারতের হয়ে খেলেছেন ১১৩টি টেস্ট ও ৩১১টি ওয়ানডে। ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের প্রথম দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন তিনি। টেস্টে ৪২.১৭ গড়ে ৭ হাজার ২১২ রান এবং ওয়ানডেতে ৪১.০২ গড়ে করেছেন ১১ হাজার ৩৬৩ রান।
হল অব ফেমে জায়গা পাওয়ার পর গাঙ্গুলী বলেন, ‘ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা এবং এই খেলার অনেক কিংবদন্তির সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের। এই স্বীকৃতি সত্যিই বিশেষ। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। ভবিষ্যতেও আমি ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চাই।’
এদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে ১০৪টি টেস্ট খেলেছেন পিটারসেন। ৪৭.২৮ গড়ে করেছেন ৮ হাজার ১৮১ রান। ২০০৫ সালের অ্যাশেজে অভিষেক সিরিজেই দ্য ওভালে শেষ টেস্টে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলে ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডকে অ্যাশেজ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৩ মৌসুমে ২৮ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জেতার কৃতিত্বেও বড় অবদান ছিল তার।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, বিশেষ করে সুইচ হিটের জন্য পরিচিত পিটারসেন ১৩৬টি ওয়ানডেতে করেছেন ৪ হাজার ৪৪০ রান। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। পিটারসেনের কাছেও হল অব ফেমের স্বীকৃতি অসামান্য।
তিনি অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন ক্রিকেটারের জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকৃতি আর হতে পারে না। এই সম্মানের গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। নিজের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে আমার শুধু গর্ব আর তৃপ্তিই অনুভূত হয়।’
ভারতের নারী ক্রিকেটের পথিকৃৎদের একজন অঞ্জুম চোপড়া ১৯৯৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় নারী ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে এক হাজার রান করেন এবং প্রথম ১০০টি ওয়ানডে খেলার কীর্তি গড়েন। ২০০০ ও ২০০৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ১২৭টি ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ ২ হাজার ৮৫৬ রান।
চোপড়া ১২টি টেস্টও খেলেছেন। সেখানে করেছেন ৫৪৮ রান। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টনটনে ৯৮ রানের ইনিংসটি ছিল তার ক্যারিয়ারসেরা। ২০০২ সালে সাউথ আফ্রিকার মাটিতে ভারতের প্রথম বিদেশ সফরের টেস্ট জয়েও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এই স্বীকৃতিতে আপ্লূত এই ভারতীয় সাবেক অধিনায়কও।
চোপড়া বলেন, ‘ছোটবেলায় খেলাধুলাপ্রেমী পরিবারে বড় হওয়ার কারণে ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের গল্প শুনেই বড় হয়েছি। খুব অল্প বয়সেই ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন মনে গেঁথে যায়। বাবা মা, শিক্ষক ও কোচরা সব সময় বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন। দেশের জার্সি গায়ে খেলতে পারাটা ছিল গর্বের। এই সম্মান শুধু আমার নয়, আমার ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে যারা পাশে ছিলেন, তাদের সবার স্বীকৃতি।’