ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে চমক

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
এমিলিও গে’র বাবার পরিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্রেনাডার ও মায়ের পরিবারের বাসা ইতালিতে। যদিও বাঁহাতি ব্যাটারের জন্ম ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে নিয়মিত খেললেও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইতালির জার্সিতে টি-টোয়েন্টি খেলেন এমিলিও। খেলেছেন চারটি ওয়ানডে ম্যাচও। ২৬ বছর বয়সী ব্যাটারের স্বপ্ন ছিল লাল বলের ক্রিকেট খেলা, ইংল্যান্ডের গায়ে জার্সি জড়ানো।

কাউন্টি ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করায় সেই সুযোগটাও এলো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্টের দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে ডারহামের হয়ে ৯২ গড়ে ৫৫২ রান করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। যেখানে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন। এ ছাড়া গত গ্রীষ্মে ডিভিশন ওয়ানে চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন এমিলিও। ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে দুইটি হাফ সেঞ্চুরিও আছে তার।

ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন বিপিএলের গত মৌসুমে রংপুর রাইডার্সের স্কোয়াডে থাকা এই ব্যাটার। এমিলিও জায়গা নিয়েছেন জ্যাক ক্রলির। টেস্টে গড় ৩১.১৮ হওয়ার পরও টিম ম্যানেজেমেন্ট তার উপর আস্থা রাখে। তবে গত অ্যাশেজে ২৭.৩০ গড়ে রান করেন। এমনকি চলতি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়েও ভালো করতে পারছেন না। ১০ ইনিংসে ক্রলির সর্বোচ্চ রান ৪৪।

এমন পারফরম্যান্সের পরই টেস্ট দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে তাকে। সবশেষ অ্যাশেজের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন সাত ক্রিকেটার। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় স্কোয়াডে রাখা হয়নি জফরা আর্চারকে। পাকিস্তান ও ভারতের মাটিতে খেলার পর দেশের মাটিতে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন লেগ স্পিনার রেহান আহমেদ।

দুই আনক্যাপড সনি বেকার ও ম্যাট ফিশারও সুযোগ পেয়েছেন। চমক হিসেবে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জেমস রেউ। সমারসেটের হয়ে ডিভিশন ওয়ানে তিনটি হাফ সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি করেছেন। যদিও শেষ চার ইনিংসে সিঙ্গেল ডিজিটে আউট হয়েছেন। তাকে অবশ্য জেমি স্মিথের ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

অ্যাশেজে সিডনি টেস্টে তিনে নেমে বাজিমাত করেছিলেন জ্যাকব বেথেলও। কিউইদের বিপক্ষেও তাকে সেখানে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল খেলছেন বাঁহাতি ব্যাটার। প্রথম টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে কিনা সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। চোটের কারণে স্কোয়াডে নেই মার্ক উড। একই দশা ব্রাইডন কার্সের। পেস ইউনিটে গাস অ্যাটকিনসনের সঙ্গে আছেন ওলি রবিনসন, জশ টাং।

অ্যাশেজের সবশেষ তিন টেস্টে ১৮ উইকেট নিয়েছিলেন ডানহাতি এই পেসার। সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে যুক্ত ছিলেন বেকার। এবার সুযোগ পেলেন ইংল্যান্ডের টেস্ট দলেও। চোটের কারণে লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকলেও ফিরেছেন স্টোকস। কিউইদের বিপক্ষে পাওয়া যাচ্ছে তাকে। ৪ জুন লর্ডসে হবে প্রথ টেস্ট। ১৭ জুন কিয়া ওভাল এবং ২৫ জুন ট্রেন্ট ব্রিজে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট।

ইংল্যান্ডের টেস্ট স্কোয়াড— বেন স্টোকস (অধিনায়ক), রেহান আহমেদ, গাস অ্যাটকিনসন, সনি বেকার, শোয়েব বশির, জ্যাকব বেথেল, হ্যারি ব্রুক, বেন ডাকেট, ম্যাথু ফিশার, এমিলিও গে, জেমস রিউ, ওলি রবিনসন, জো রুট, জেমি স্মিথ এবং জশ টাং।