পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একটি হাসপাতালের ওপর পাকিস্তানের এমন হামলাকে নিন্দা জানাচ্ছে পুরো বিশ্ব। বেসামরিক মানুষের ওপর এমন অন্যায় হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববাসীর নিকট সাহায্য চেয়েছেন গাজানফার। বিশেষ সাহায্য চেয়েছেন নিজেদের 'ঘনিষ্ঠ বন্ধু' ভারতের কাছ থেকে। সেই সাথে পাকিস্তানকে হুশিয়ারি দিয়ে এই স্পিনার জানিয়েছেন, এমনটা চলতে থাকলে পাকিস্তানের জন্যও খুব খারাপ কিছুই অপেক্ষা করছে।
২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া এই স্পিনার বলেন, 'আমি জানি না তারা সাধারণ মানুষের ওপর এভাবে আক্রমণ করে কী প্রমাণ করতে চাইছে। আমরা এটা মেনে নিতে পারি না, আফগানিস্তান এটা মেনে নিতে পারে না।'
আফগানিস্তানের ইতিহাসের কথা পাকিস্তানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে একটা প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রাখেন তিনি, 'সবাই আফগানিস্তানের ইতিহাস জানে। যদি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে পাকিস্তানের জন্য খুব খারাপ হবে।'
রাজনীতি ও ক্রিকেট দুই ক্ষেত্রেই ভারতের সাথে বেশ উষ্ণ সম্পর্ক আফগানিস্তানের। ক্রিকেটে আফগানদের উঠে আসায় ভারতের সাহায্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে রাজনীতির মাঠেও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে ভারত সরকারের। ভারতকে তাই নিজেদের এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসার আহবান গাজানফারের।
পাকিস্তান যেন এমন ঘটনা আর না ঘটাতে পারে সে ব্যাপারে ভারতের উদ্যোগ কামনা করে গাজানফার বলেন, 'ভারত আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা এই ব্যাপারে তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করি এবং তাদের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলতে চাই যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।'
ভারতের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের সাহায্য প্রার্থনা করে তিনি আরো বলেন, 'অন্যান্য দেশের কাছেও আমাদের একই অনুরোধ থাকবে। পুরো বিশ্বই এখন অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এটা কারো জন্যই ভালো নয়।'
৪০০ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি এই হামলায় আরো প্রায় ২৫০ জন মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবী আফগান তালেবান সরকারের একজন মুখপাত্রের। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দুই দেশ পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ এখনো অজানা। সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ায় এর আগে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন আফগানিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খানও। রশিদ এই হামলাকে 'যুদ্ধাপরাধ' বলেও অভিহিত করেন।