হাতের নাগালে লক্ষ্য পেয়েও শুরুটা ভালো করতে পারেনি পাকিস্তান। তারা দলীয় ২৭ রানেই হারায় সাইম আইয়ুবের উইকেট। এরপর দলীয় ৫৩ রানে আউট হয়ে যান অধিনায়ক সালমান আলী আঘা। সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলেন শাহিবজাদা ফারহান ও বাবর আজম। দুজনে মিলে গড়েন ৪৫ রানের জুটি।
বাবর ১৫ রান করে আউট হয়েছেন। আর ফারহান হাফ সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ফেরেন ৪৭ রান করে। এরপর ১৬ রানের মধ্যে আরও ৪টি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন ফাহিম আশরাফ ও শাহীন আফ্রিদি। ফাহিম অপরাজিত থাকেন ১১ বলে ২৯ রান করে। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ৫ রান করে অপরাজিত থাকেন আফ্রিদি।
দুজনের জুটি অবিচ্ছিন্ন থাকে ২০ বলে ৩৪ রানে। নেদারল্যান্ডসের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন আরিয়ান দত্ত ও পল ভ্যান মিকিরেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন লোগান ভ্যান বিক, কাইল ক্লেইন ও ভ্যান ডা মারউই। দারুণ বোলিং করেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি ডাচ বোলাররা।
এর আগে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নেদারল্যান্ডসকে ১৪৭ রানে আটকে দেয় পাকিস্তান। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৯.৫ ওভারেই গুটিয়ে যায় নেদারল্যান্ডসের ইনিংস। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে পাকিস্তান। যদিও শুরুটা খারাপ ছিল না নেদারল্যান্ডসের। ওপেনার মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও’ডাউড আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে রান তুলতে থাকেন। কিন্তু চতুর্থ ওভারে সালমান মির্জার বলে মাত্র ৫ রান করা ও’ডাউডকে ফিরিয়ে দেন উসমান খান।
পরের ওভারেই বড় ধাক্কা খায় নেদারল্যান্ডস। ১৫ বলে ২৪ রান করা লেভিটকে আউট করেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। এই উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বাবরের। তিনি বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে শাহীনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। মাঝের ওভারে বাস ডি লিড ও কলিন অকারম্যান ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। পাওয়ার প্লের মধ্যেই দলীয় সংগ্রহ পৌঁছে যায় ৫০ রানে। তবে অষ্টম ওভারে আবরার আহমেদ অ্যাকারম্যানকে (১৪ বলে ২০) আউট করলে ভাঙে সেই জুটি।
তখন নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৬৫। এরপর অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ১৩তম ওভারে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ১০০ রানের ঘরে নিলেও, চাপ কাটাতে পারেননি। মোহাম্মদ নেওয়াজ আউট করেন ডি লিডকে (২৫ বলে ৩০)। পরে আবরার আহমেদ আউট করেন ৩৭ রান করা এডওয়ার্ডসকে। পরের ওভারে সাইম আইয়ুব জোড়া আঘাত হানেন। প্রথম বলেই লোগান ভ্যান বিক শূন্য রানে আউট করার পর জ্যাক লায়ন–ক্যাশেটকে ৯ রানে ফেরান তিনি।
এতে নেদারল্যান্ডসের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১২৯। শেষ দিকে শাহীনের বলে ৪ রান করা ভ্যান ডার মারউই আউট হন। শেষ ওভারে সালমান মির্জা আরিয়ান দত্তকে (১৩) ও পল ভ্যান মিকেরেনকে (০) আউট করে নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের ইতি টানেন। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন সালমান মির্জা। ৩.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। মোহাম্মদ নেওয়াজ, আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুব নেন দুটি করে উইকেট। আর আফ্রিদির শিকার একটি।