বাংলাদেশ সবার আগে আইসিসিকে লাথি মেরেছে: রশিদ লতিফ

পাকিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে শ্রীলঙ্কা যাচ্ছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপ খেললেও সরকারের নির্দেশে ভারত ম্যাচ বয়কট করবেন শাহীন আফ্রিদি-বাবর আজমরা। পাকিস্তান সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বড় লোকসানের মুখে আইসিসি। তবে রশিদ লতিফ মনে করেন, বিশ্বকাপ বয়কট করে সবার আগে আইসিসিকে লাথি মেরেছে বাংলাদেশ।

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। কয়েকবার চিঠি চালাচালির পর ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেছে তারা। যদিও আইসিসিকে নিজেদের পরিস্থিতির কথা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা। কদিন আগে আইসিসির বোর্ড সভায়ও হেরে গেছে বাংলাদেশ।

১৫ ভোটের মধ্যে কেবলমাত্র পাকিস্তান বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছে। লিটনদের সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠিও দেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। তবুও ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিসির দ্বিচারিতার প্রতিবাদ হিসেবে বিশ্বকাপ খেললেও ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। রশিদ লতিফ মনে করেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কটের পরই সবার সাহস বেড়েছে।

‘কট বিহাইন্ড’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে আলাপকালে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশ যে কাজটা করেছে সেটাতেই সবার সাহস বেড়েছে। বাংলাদেশ হয়ত ভাবেনি এত বড় একটা তুলকালাম হয়ে যাবে। বাংলাদেশই সবার আগে আইসিসিকে লাথি মেরেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ওইটারই পেছনে আছে। এটা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত নয়, পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত।’

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বড় লোকসান গুনতে হবে আইসিসিকে। শুধু ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয় পাশাপাশি ব্রডকাস্টার, টিকিট বিক্রি, স্পন্সরশিপ কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও ক্ষতি হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটি প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি। দুই দেশের খেলা না হলে আইসিসি একাই প্রায় ২০০ কোটি রুপি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

যার প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যতে আইসিসির রাজস্ব বণ্টণেও। কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন ট্রফি কিংবা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে যা আয় হয় সেটাই মূলত পরবর্তীতে সদস্যগুলোতে লভ্যাংশ হারে বণ্টন করে দেওয়া হয়। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও লস হয়েছে ব্রডকাস্টারদের। এবারও তেমন কিছু হলে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে জিও কিংবা স্টার স্পোর্টসের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্ষতির কথা ভেবে পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করার হুমকিও দিতে পারে আইসিসি।

যদিও রশিদ লতিফের ধারণা, নিষিদ্ধ হওয়ার পরোয়া করছে না পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘সবকিছু বদলে যাবে। ঠিক আছে, পাকিস্তানকে নিষেধাজ্ঞা দাও। কিন্তু আগেই ভেবে নিয়েছে এরা কতদূর যেতে পারে। পাকিস্তান এসবের পরোয়া করছে না। আমি জানি পাকিস্তানের লোকসান হবে। তাদের সঙ্গে বাকি একশ দেশেরও তো লোকসান হবে। বিলিয়ন থেকে যদি মিলিয়নের লাভ হয় তাহলে ইতালি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জাপান, নাইজেরিয়াকে যে টাকা দিচ্ছে সেটা কই থেকে দিচ্ছে? টাকা কই থেকে আসে? আইসিসির ইভেন্ট থেকে আসে, তাই না?’

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের মতে, ক্রিকেট নিয়ে বিসিসিআই ও আইসিসি যে আধিপত্যমূলক আচরণ করছে সেটার ব্যাপার শিক্ষা দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। রশিদ লতিফ বিশ্বাস করেন, তাদের দুই দেশের পাশাপাশি অন্য কোন দেশ যুক্ত হলে দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে এবং বাংলাদেশও হয়ত বিশ্বকাপ খেলবে।

রশিদ লতিফ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার পরোয়া না করে বিসিসিআই ও আইসিসিকে শিক্ষা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ-পাকিস্তান এটা করেছে। যদি আসা লাগে তাহলে বসো, কথা বলি না হলে তোমরা তোমাদের আইসিসির ক্রিকেট চালাও আমরা অংশগ্রহণ করব না। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তানের তিনটা ম্যাচ হয়েছে। টাকার দিক থেকে কত বড় ম্যাচ হয়েছে। পাকিস্তানকে ছাড়া এসিসি এই টুর্নামেন্ট আবার করতে পারবে? সবাই ভাবছে এটা শুধু ১৫ ফেব্রুয়ারির বিষয় কিন্তু তা না। এরা ভবিষ্যতের ভাবনাও ভেবে রেখেছে। আরেকটা দেশ যদি একসাথে হয়ে যায় তাহলে পরবর্তী বোর্ড সভায়ই এটা সমাধান হয়ে যাবে। বাংলাদেশও হয়ত বিশ্বকাপ খেলবে।’

আরো পড়ুন: