ভারতের অলিম্পিক স্বপ্নে বাধা বাংলাদেশ-পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
২০৩০ সালে দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে ভারত। বছর কয়েক পর ২০৩৬ সালে আহমেদাবাদে আয়োজন করতে চায় অলিম্পিক গেমস। তবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব নাও পেতে পারে ভারত। সম্প্রতি নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায় এমন গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, অলিম্পিক আয়োজন করতে হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নতি করতে হবে ভারতকে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী জিও পলিটিক্যাল লড়াই ক্রমশই তীব্র হচ্ছে। ভারত আগে থেকেই জিও পলিটিক্যাল লড়াইয়ের অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপার পাওয়ার হয়ে ওঠার নেশায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টায় ব্যস্ত। যার ফলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ক্রমশই সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে তাদের। চীনের পাশাপাশি মালদ্বীপ, নেপালের সঙ্গে বৈরিতা আছে ভারতের। গত এক যুগের বেশি সময়ধরে ভারতের সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিল বাংলাদেশ। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চিত্রও বদলে গেছে।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো রাখা হয়েছিল কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। তবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী হওয়ায় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে দেয়ার জন্য আন্দোলন করে বিজেপির কলকাতার একাংশ ও ধর্মীয় সংগঠনরা। জনগণের তোপের মুখে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ায় বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ।

ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আইসিসিরও দ্বারস্থ হয় বিসিবি। চিঠি চালাচালির পাশাপাশি কয়েক দফা বৈঠক করলেও ভারত থেকে লিটন দাস-মুস্তাফিজদের ম্যাচগুলো সরাতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশকে সরিয়ে নিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ক্রিকেট বিশ্লেষক কিংবা অনুরাগীদের ধারণা, আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতের বড় একটা প্রভাব রয়েছে। গার্ডিয়ানও তাদের প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে।

বর্তমানে আইসিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন জয় শাহ। তিনি একটা সময় বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন। ক্রিকেটীয় ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা জয় শাহর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে। একটা সময় ভারতের মিডিয়া জায়ান্ট জিও স্টারের সঙ্গে কাজ করা সানযোগ গুপ্ত এখন আইসিসির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতের ক্রিকেটের সঙ্গে দেশটির রাজনীতি যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেটা মোটামুটি ওপেন সিক্রেট।

ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও আইসিসি বেশিরভাগ সময়ই ভারতের পক্ষে রায় দেয়। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও আর্থিক সুবিধার জন্য গায়ানায় ভারতের সেমিফাইনাল দেয়ার বিষয়টি প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রিকেটে এমন কিছু করতে পারলেও অলিম্পিকে এসবের সুযোগ নেই। কারণ খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে আইসিসির তুলনায় বেশ কঠোর আইওসি। রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর সময়ে থাকায় বিপাকে পড়তে পারে ভারত।

২০৩৬ অলিম্পিকে আয়োজনের স্বত্ব পেতে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার। আইওসির একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, অন্য দেশগুলোরও যদি এভাবে বয়কটের আশঙ্কা থাকে তাহলে ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া অকল্পনীয় হতে পারে। আইওসির নিয়ম অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হবে এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাব মুক্ত থাকতে হবে।

এমনকি অলিম্পিকে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় মত প্রকাশও নিষিদ্ধ। আইওসির কঠোরতার উদাহরণ দিতে ইন্দোনেশিয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ওয়ার্ল্ড আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ইসরায়েলের ক্রীড়াবিদদের ভিসা দেয়নি ইন্দোনেশিয়া। এমন ঘটনার জেরে ইন্দোনেশিয়াকে ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন সংক্রান্ত আলোচনা থেকেও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ভারত এমন পরিস্থিতিতে পড়বে কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে। একশ বছরের বেশি সময় পর অলিম্পিকে ফেরানো হচ্ছে ক্রিকেট। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস গেমস থেকেই ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে। ২০৩২ ব্রিসবেন গেমসেও থাকছে ক্রিকেট। ভারতের বাজার ধরতে অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করেছে আইওসি। তবে যেকোন মূল্যে সেটা করতে আগ্রহী নয় বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ায় টুর্নামেন্ট বয়কটের কথা ভাবছে পাকিস্তান।

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তানের ভারতে না যাওয়া, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়া এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিদ্যমান। গত বছর দুই দেশের মধ্যে সামরিক যুদ্ধও হয়েছে। আইওসির সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী হতে হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জোরালো বার্তা দিতে হবে।

আরো পড়ুন: