বিদেশি খেলোয়াড়দের ব্যাপারে আরও বেশি কঠোর হওয়ার পরামর্শ গাভাস্কারের

ভারতীয় ক্রিকেট
সুনীল গাভাস্কার
সুনীল গাভাস্কার
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইনজুরি বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে আইপিএলের মাঝ পথে নাম সরিয়ে নেয়ার ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। এই ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সুনীল গাভাস্কার। সাবেক এই ভারতীয় ক্রিকেটার মনে করেন, কিছু ক্রিকেটার আইপিএলকে খুব হালকাভাবে নেন এবং মৌসুম চলাকালীন মাঝপথে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

এই ধরনের কর্মকান্ড যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি অন্যায্য। কারণ টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে এসে উপযুক্ত বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। দলগুলো স্কোয়াড গঠনে বিপুল বিনিয়োগ করে এবং বিদেশি খেলোয়াড়দের আগেভাগে চলে যাওয়ার কারণে তাদের বিপাকে পড়া উচিত নয়। তাই এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্পোর্টস্টারের কলামে গাভাস্কার লিখেছেন, ‘যারা নিলামে নাম দেন এবং দল পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে চোট ছাড়া অন্য কারণে নিজেদের স্থানীয় গণমাধ্যমে ভালো ভাবমূর্তি তৈরির জন্য সরে যান, তাদের দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত একটি ভালো পদক্ষেপ। যারা আইপিএলে এসে নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পেয়ে চোটের ভান করে দেশে ফিরে যান এবং আইপিএল চলাকালীন নিজেদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তাদেরও নিষিদ্ধ করা উচিত।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘অনেক বিদেশি খেলোয়াড় আইপিএলকে খুব হালকাভাবে নেন এবং অনেক সময় নিজেদের বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কোনো অজুহাত দেখিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট খেলেন না, যদিও নিলামে অংশ নেয়ার আগে তারা পূর্ণ মৌসুম খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এত দেরিতে ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষে বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজে বের করা সম্ভব হয় না, ফলে বোর্ড খেলোয়াড়কে ছাড়পত্র দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।’

গাভাস্কার আরও জানান নিলামে কেনার পর বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডগুলো তাদের খেলোয়াড়দের আইপিএল পারিশ্রমিকের ১০ শতাংশ কমিশন পায়। তিনি প্রস্তাব দেন, টুর্নামেন্টে একজন খেলোয়াড় যত ম্যাচে খেলতে পারবেন, সেই অনুপাতে তার পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা উচিত। গাভাস্কার কিছু বিদেশি ক্রিকেটারকে সরাসরি কটাক্ষ করেছেন।

এই ব্যাপারে গাভাস্কার লিখেছেন, ‘মনে রাখতে হবে, বোর্ডগুলো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে নয়, খেলোয়াড়ের পারিশ্রমিকের ১০ শতাংশ পায়। এটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য অতিরিক্ত ব্যয়। তাই বিসিসিআইয়ের দৃঢ় থাকা জরুরি এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন এমন ঘটনা না ঘটে। খেলোয়াড় যত ম্যাচ মিস করবেন, তার পারিশ্রমিক কমানোর নিয়ম বিদেশি বোর্ডগুলোর পাওয়া সেই শতাংশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’

আরো পড়ুন: