২০১০ সালে আইপিএলের তৃতীয় আসর শেষে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ললিত মোদিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। পরে তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসন থেকেও পুরোপুরি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
উইজডেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক আইপিএল চেয়ারম্যান বলেন, 'ভারত ছাড়ার আগে কিছু কাজ শেষ করতে না পারার জন্য আমার আফসোস আছে। আইপিএলের প্রতিষ্ঠাতার সবসময় লিগের পরিচালনা পর্ষদে একটি স্থায়ী আসন থাকা উচিত ছিল। আমি বিসিসিআইকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে ফেলেছিলাম।'
মোদি আরও দাবি করেন, আইপিএলের শুরুতে তিনি চাইলে লিগের শাসন কাঠামো ভিন্নভাবে নির্ধারণ করতে পারতেন, কারণ তখন অনেকেই এই প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তখন আমি চাইলে নিজের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারতাম। কারণ অধিকাংশ মানুষই মনে করেছিল আইপিএল ব্যর্থ হবে। তারা বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। আমি আলাদা একটি কোম্পানি গঠনের সংবিধানও তৈরি করেছিলাম। বিসিসিআই অবশ্যই আর্থিক সুবিধা পেত, কিন্তু লিগ পরিচালনার দায়িত্ব আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও বিসিসিআইয়ের যৌথ অংশীদারত্বে থাকা উচিত ছিল।'
এই সাক্ষাৎকারে মোদি দাবি করেন আইপিএলের সাফল্যের পেছনে তার ভূমিকা ছিল অপরিহার্য। কিন্তু তিনি তার প্রাপ্য সম্মান কখনোই পাননি।
সাবেক আইপিএল চেয়ারম্যান বলেন, 'বিভিন্ন কারণে আমাকে ছোট করে দেখা হয়েছে। সবাই আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিল। আমি যদি আমি না হতাম, তাহলে আইপিএল কখনো সফল হতো না। আমাকে ছাড়া আইপিএল সফল হওয়ার প্রশ্নই আসে না। ১৭ বছর পরও আপনারা আমার সঙ্গে কথা বলছেন, যদিও আমি এতদিন ধরে ক্রিকেট প্রশাসনের বাইরে আছি, এটাই তার প্রমাণ।'