'মুম্বাই ছেড়ে আসাটাই ইশানকে পরিণত ক্রিকেটার বানিয়েছে'

আইপিএল
ইশান কিশান, ফাইল ফটো
ইশান কিশান, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সাত মৌসুম আইপিএলের সফলতম ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলার পর গত মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে যোগ দিয়েছিলেন ইশান কিশান। ভারতীয় জাতীয় দলের তারকায় ঠাসা মুম্বাইয়ে ইশানের সময়টা ভালো যাচ্ছিল না শেষ দুই মৌসুমে। হায়দরাবাদে আসার পর প্রথম মৌসুমটা ভালো-মন্দের মিশেলে কাটালেও দ্বিতীয় মৌসুমে এসে আইপিএলে নিজের সেরা সময় পার করছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। মুম্বাইয়ের সাবেক ক্রিকেটার আম্বাতি রায়ডু মনে করেন মুম্বাই ছেড়ে আসার কারণেই নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন ইশান।

রায়ডুর দাবি, তারকাখচিত মুম্বাই ছেড়ে আসাটাই ইশানকে আজকের পরিণত ক্রিকেটারে রূপ দিয়েছে। রায়ডুও ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেছিলেন। তবে তার মতে, নিজের জন্য বিষয়টা তুলনামূলক সহজ ছিল, কারণ তিনি কখনো তারকাখ্যাতি নিয়ে খুব একটা ভাবেননি। কিন্তু ইশানের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইম আউট’ অনুষ্ঠানে রায়ডু বলেন, 'ওর মতো একজনের জন্য ব্যাপারটা কঠিন ছিল। মুম্বাইয়ের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বড় হতে হলে চারপাশের এত তারকার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। এখন সে নিজেই সুপারস্টার, কিন্তু তখন এত বড় বড় নামের মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করা খুবই কঠিন ছিল।'

তিনি আরও বলেন, 'বড় খেলোয়াড়রা জানে কখন নিজেদের খেলাটা চালু করতে হয়, কখন আবার একটু দূরে সরে গিয়ে মানসিকভাবে চাঙা হতে হয়। কিন্তু অনেক তরুণ ক্রিকেটারই জানে না কখন থামতে হবে আর কখন আবার পুরোপুরি মনোযোগী হতে হবে। এটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমি নিশ্চিত, ইশান এসব শিখেছে এবং কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই শিখেছে।'

আইপিএল ২০২৬–এ বর্তমানে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন ইশান। ১৪ ম্যাচে তার রান ৫৬৯, গড় ৪০.৬৪ এবং স্ট্রাইক রেট ১৭৮.৩৬। শুক্রবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৪৬ বলে ৭৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।

সেটি ছিল এবারের মৌসুমে তার ষষ্ঠ ফিফটি। এর আগে কোনো আইপিএল মৌসুমে তিনটির বেশি ফিফটি করতে পারেননি ইশান। সানরাইজার্স হায়দরবাদের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারের উন্নতির পেছনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে তার খেলার ধরনে বদল আনাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন রায়ডু।

এ প্রসঙ্গে রায়ডু বলেন, 'ওর শট নির্বাচন অনেক উন্নত হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমরা দেখেছি, শট বাছাইয়ে সে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিত। কিন্তু এবার বেশিরভাগ সময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দেখেছি। আমি মনে করি ঝাড়খণ্ডের অধিনায়কত্ব তাকে নিজের খেলা সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করেছে। অনেক সময় নেতৃত্ব পেলে ক্রিকেটাররা আরও ভালো ব্যাটারে পরিণত হয়। ইশান তাদেরই একজন, যার খেলা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা আছে এখন।'

আরো পড়ুন: