প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসে রসিংটনকে উড়িয়ে আনার গল্প শোনালেন নাফিস

বিপিএল
অ্যাডাম রসিংটন (বামে) ও নাফিস ইকবাল (ডানে)
অ্যাডাম রসিংটন (বামে) ও নাফিস ইকবাল (ডানে)
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে মাত্র ১ রানে আউট হয়ে বিপিএলের চলতি আসর শুরু করেছিলেন অ্যাডাম রসিংটন। চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে অভিষেকটা ভুলে যাওয়ার মতো হলেও সবশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ইংলিশ এই ব্যাটার। সুযোগ ছিল বিপিএলে প্রথম ব্যাটার হিসেবে টানা চার সেঞ্চুরিরও। যদিও সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৩৮ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলে ফেরায় সেটা করতে পারেননি রসিংটন।

এখনো পর্যন্ত ৬ ম্যাচের চারটিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এমন সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ইংলিশ এই ব্যাটারের। ৫ ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ৮০.৩৩ গড় ও ১৪২ স্ট্রাইক রেটে ২৪১ রান করেছেন রসিংটন। চলতি বিপিএলে তিনিই সর্বোচ্চ রানের মালিক। অথচ মাত্র একদিনের নোটিশে ইংল্যান্ড থেকে বিপিএল খেলতে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি।

এমনকি চট্টগ্রামের চাওয়ায় প্রিমিয়াম ইকোনমি সিটে বসে বাংলাদেশে এসেছেন রসিংটন। সেই প্রসঙ্গ তুলে নাফিস ইকবাল বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে আনতে গিয়ে রসিংটনের জন্য খুব দুর্ভাগ্য ছিল যে বিজনেস ক্লাসে সিট ছিল না। কিন্তু প্রিমিয়াম ইকোনমিতে সে রাজি হয় আসার জন্য এবং এসে পরের ম্যাচটা খেলে। ওই ম্যাচটা ওর জন্য খুবই কঠিন ছিল রাত জেগে এসে খেলতে (হয়েছে)। পারফর্ম করতে পারেনি কিন্তু এখন করছে।’

২০২৪ বিপিএলে দুর্দান্ত ঢাকার হয়ে বিপিএল খেলেছিলেন রসিংটন। গত আসরে তাকে নিতে আগ্রহ দেখায়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। চলতি আসরে তাকে নিয়ে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগ (এনপিএল)। পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে ৭ ম্যাচে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৩২৩ রান করেছিলেন ডানহাতি এই উইকেটকিপার ব্যাটার। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে দুইটা হাফ সেঞ্চুরিও ছিল তাঁর। অ্যানালিষ্টের পরামর্শেই তাকে দলে নেয় চট্টগ্রাম।

ফ্র্যাঞ্চাইজিটির টিম ম্যানেজার নাফিস বলেন, ‘আমাদের অ্যানালিষ্ট বলল যে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে রসিংটন খুব ভালো খেলেছে। মজার ব্যাপার হলো, আমি জানি না এটা রেকর্ড কিনা কিন্তু একদিনের মাধ্যমে ওকে উড়িয়ে আনা (হয়েছে)। ইংল্যান্ডের সময় ১০টার দিকে ওকে জানানো হয়, ওর সঙ্গে আলোচনা করা হয় এবং এনওসির ব্যাপারও থাকে। সেগুলোতে রাজি করিয়ে ওকে আনা হয়।’

বিপিএল শুরুর একদিন আগে আর্থিক অপারগতার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রামের মালিকানা থেকে সরে যায় ট্রায়োঙ্গল সার্ভিসেস। টুর্নামেন্ট চালিয়ে নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা নেয় বিসিবি। তাৎক্ষণিকভাবে মেন্টর হিসেবে হাবিবুল বাশার ও প্রধান কোচ হিসেবে মিজানুর রহমান বাবুলকে দায়িত্ব দেয় তারা। সবাই কমিটির দল বলে হাস্যরস করলেও নাফিস জানান, কেউ বলতে পারবে না তারা এটার কোন বাড়তি সুবিধা নিয়েছে।

নাফিস বলেন, ‘আমি কালকেও একজনকে বলেছিলাম কমিটির দল হয়ে মনে হয় উল্টো আমাদেরই বিপদ। কেননা আপনি যদি সূচিটা দেখেন টানা তিনটা ম্যাচ আমাদের খেলতে হবে। কমিটির দল হলেও আমরা কোন বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি —এটা আপনি বলতে পারবেন না।’

আরো পড়ুন: