দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ক্রিকফ্রেঞ্জিকে এমনটাই জানিয়েছেন আমির। চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে বিপিএল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আমির। ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে মনে রাখার মতো একটি আসর পার করেছিলেন তিনি। এই আসরের পরই পুনরায় জাতীয় দলে ডাক পান আমির।
পাকিস্তান দলে ব্রাত্য হয়ে অবসর নিলেও এখনো বিপিএলের নিয়মিত মুখ আমির। সবমিলিয়ে বিপিএলে ৪০ ম্যাচে ৫৫ উইকেট নিয়েছেন এই ফাস্ট বোলার। ৬.৩৯ ইকোনমি রেট এবং ১৭.৯০ গড় নিয়ে বিপিএলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার তিনি।
ক্রিকফ্রেঞ্জির সঙ্গে আলোচনায় আমির তুলে ধরেছেন ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বাকবদলের গল্প। নিচে পুরো সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন- বিপিএলের পরিচিত মুখ আপনি, যে কারণে অনেক জানাশোনা। সেখান থেকে টুর্নামেন্টে একটি জিনিস পরিবর্তন করতে চাইলে, সেটা কী হবে।
মোহাম্মদ আমির: একটি জিনিস পরিবর্তন করা—সত্যি বলতে অনেক কিছুই আছে। তবে আমি মনে করি উইকেট আরও ভালো হতে পারে। কিন্তু আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করলে এখনকারটা ভালো। যদি দেখেন, ম্যাচগুলো খুব কাছাকাছি হচ্ছে। ক্রিকেটের মান উন্নত হচ্ছে। তাই আমি আসলে কিছু পরিবর্তনের কথা বলতে পারি না। তবে হ্যাঁ, তারা যদি আরও বেশি তরুণ খেলোয়াড়কে সুযোগ দেয়, সেটা ভালো হবে। আমি দুই-তিনজন তরুণ খেলোয়াড় দেখেছি, তারা খুব ভালো এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। কিন্তু তাদের যত্ন নিতে হবে এবং গড়ে তুলতে হবে।
প্রশ্ন- গতকাল শামীম হোসেন পাটোয়ারী দারুণ একটি ইনিংস খেলেছে, আপনি বোলিংয়ে ছিলেন শেষ ওভারে। তার ইনিংসটি কেমন লেগেছে?
আমির: সত্যি বলতে, বিপিএলে দেখা সেরা ইনিংসগুলোর একটি। সে দারুণ কিছু শট খেলেছে। একজন বোলার হিসেবে বললে, তার কাছে এমন সব শট আছে যেগুলো দিয়ে সে বোলারদের সামলাতে পারে। বাংলাদেশে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে।
প্রশ্ন- একটা সময় আপনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন, কিন্তু বিপিএলের মাধ্যমে আবার ফিরে এসেছিলেন। মনে পড়ে কী?
আমির: হ্যাঁ, বিপিএলই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পথ। তার আগে আমি পাকিস্তানে মাত্র পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলাম। এখানে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে খেলি, ভালো পারফর্ম করি। তামিম ভাই অধিনায়ক ছিলেন। সেটাই ছিল আমার ফিরে আসার রাস্তা। বিপিএল আমার হৃদয়ের খুব কাছের, কারণ এই টুর্নামেন্টই আমাকে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়ে এনেছে।
প্রশ্ন- বিপিএল কি পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ভূমিকা রাখে?
আমির: দেখেন সামনে বিশ্বকাপ রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে। এখানকার কন্ডিশনও প্রায় একই। এখানে ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে ঢাকায়। তবে বিপিএল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন- বর্তমান সময়ে মুস্তাফিজুর রহমানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আমির: আমার মনে হয় সে বাংলাদেশে এবং বিশ্বের সেরাদের একজন। সে দিন দিন আরও ভালো হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার ফিটনেস। সে ফিট আছে, শিখতে চায়, প্রতিদিন শিখছে এবং প্রতিদিন আরও ভালো করছে।
প্রশ্ন- সেক্ষেত্রে আপনার প্রিয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার কে?
আমির: আমার প্রিয় বলতে... আমার ভালো বন্ধু শান্ত। শান্ত আমার ভালো বন্ধু এবং আমি তাকে একজন খেলোয়াড় হিসেবে খুব পছন্দ করি। সে দারুণ খেলোয়াড়।
প্রশ্ন- সাকিব আল হাসান সম্পর্কে কি বলবেন? আপনি বলেছিলেন তার খেলা আপনার ভালো লাগে।
আমির: আমি সাকিব ভাইকে ২০১৫-১৬ সাল থেকে চিনি। সে আমার মতোই একটু আগ্রাসী, কিন্তু সে খুব ভালো মানুষ। সম্প্রতি টি-টেনে সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে, সে ভালো করছে। সে বাংলাদেশের একজন বড় অ্যাম্বাসেডর। সে অনেক কিছু দিয়েছে, অনেক পারফর্ম করেছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার বিশাল ভূমিকা আছে।
প্রশ্ন- আপনি মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে তাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আমির: আমি মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে অনেক খেলেছি, তিনি তখন সিলেট স্ট্রাইকার্সের অধিনায়ক ছিলেন। আমি মাশরাফি ভাইকে খুবই বিনয়ী মানুষ হিসেবে পেয়েছি এবং সে আমার ভালো বন্ধু। আমি দুই দিন আগেই তার সঙ্গে কথা বলেছি। অনেক মানুষ তাকে অনেক সম্মান করে। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অবদান রেখেছেন। আমি শুধু তাকে শুভকামনা জানাতে চাই।
প্রশ্ন- ২০২০ সালে খুলনা টাইটান্সে খেলতে এসে পাঁচ উইকেট নিয়ে নাফিস ইকবালকে পাঁচ আঙুল দেখিয়েছিলেন কারণ কী ছিল?
আমির: নাফিস ভাই খুব ভালো মানুষ। সম্প্রতি তার সঙ্গে আবার দেখা হয়েছে। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো, প্রায়ই ফোনে কথা হয়। যখন আমি খুলনার হয়ে খেলছিলাম, তখন সে ম্যানেজার ছিল। বিপিএলে এটা ছিল আমার প্রথম ফাইফার। তাই আমি তাকে পাঁচ আঙুল দেখিয়েছিলাম—‘এটা তোমার জন্য’।
প্রশ্ন- ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার বলে বিরাট কোহলির ক্যাচ মিস হয়েছিল তখন আপনার মাথায় কী চলছিল?
আমির: সে সময়টা খুব বেশি ছিল না ভাবার। আমি তখনও ভাবছিলাম ফখরের নো বলের কথা, যেটার পর সে সেঞ্চুরি করেছিল। ভিরাট একজন বড় খেলোয়াড়। আমি ভাবছিলাম, এটা আবার হতে দেওয়া যাবে না। সে যদি সেঞ্চুরি করে, ভারত ট্রফি জিতে যাবে।
প্রশ্ন- সেদিন পাওয়ারপ্লেতে ধাওয়ান, কোহলি ও রোহিত—তিনজনকে আউট করার অনুভূতি কেমন ছিল?
আমির: সত্যি বলতে, ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে জেতাটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা স্মৃতি। ওই স্পেলটা আমার হৃদয়ের খুব কাছের।
প্রশ্ন- মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটা নিয়ে কথা বলবে...
আমির: যেমন আমরা ওয়াসিম ভাইয়ের ১৯৯২ সালের স্পেল নিয়ে কথা বলি, তেমনি এই প্রজন্ম আমার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের সেই স্পেল নিয়ে কথা বলছে। এটা আমার জীবনের সেরা স্পেল।
প্রশ্ন- ২০০৯ সালে শচীন টেন্ডুলকারকে একবার স্লোয়ারের মাধ্যমে আউট করেছিলেন...মনে আছে কী?
আমির: ওই উইকেটটার অনুভূতি আলাদা। শচীনের বিরুদ্ধে বোলিং করা আমার স্বপ্ন ছিল। ওই উইকেটের পর ভারতে আমার অনেক ভক্ত তৈরি হয়।
প্রশ্ন- বিসিবি যদি কখনো আপনাকে পেস বোলিং কোচ বা মেন্টর হতে বলে?
আমির: আমি খুব খুশি হবো এবং অবশ্যই করতে চাই।