আইপিএল নিলামে পেসারদের দ্বিতীয় সেটে থাকা মুস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। বাঁহাতি পেসারকে পেতে শুরুতে আগ্রহ দেখায় দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংস। যদিও একটা সময় পর দিল্লি লড়াই থেকে ছিটকে যায়। সেই সময় চেন্নাইয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে যোগ দেয় কলকাতা। দুই দলের চাহিদা থাকায় দ্রুতই দাম বাড়তে থাকে বাঁহাতি পেসারের। একটা সময় চেন্নাইকে হটিয়ে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে নিজেদের করে নেয় কলকাতা।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে একটা সময় উগ্র হয়ে উঠে ভারত ও কলকাতার বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগু। আইপিএলের কোন ফ্র্যাঞ্চাইজিতেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের না খেলানোর পরামর্শ দেয়া হয়। এমন অবস্থায় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। কলকাতার মাঠে যাতে বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটার না খেলতে না পারে সেটার জন্য হুমকিও দেয় তারা।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে তিনটি ম্যাচ খেলবেন লিটন দাসরা। একটি ম্যাচ হবে মুম্বাইয়ে। যার ফলে প্রায় সপ্তাহ দুয়েক কলকাতায় থাকতে হবে বাংলাদেশ দলকে। ওই সময়ে লিটন-মুস্তাফিজদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুজন।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করতে থাকা সুজন বলেন, ‘সরকার থেকে কথা (মুস্তাফিজ ইস্যুতে) বলা যেতে পারে। বিসিবির কিছুই করার নেই। এটা তো সরকারিভাবেই হয়েছে। যদিও বিসিসিআই থেকে হয়তবা ঘোষণাটা এসেছে। কিন্তু দেশ যদি নিরাপত্তা না দিতে পারে বিসিসিআই কীভাবে নিরাপত্তা দেবে? সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় বিসিবির থেকে (চেয়ে) সরকারেরই কথা বলা উচিত।’
‘বাংলাদেশ দল যে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে সেখানে তাদের আসলে কী দায়িত্ব...নিশ্চয়তা আছে কিনা, তাদের কী নিরাপত্তা দিতে পারবে তারা? এই ধরনের যদি বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে যায় সেক্ষেত্রে ক্ষতিটা তো আমাদের দেশেরই হবে। এটাতে অবশ্যই বিসিবি হোক এবং দেশের সরকারেরও আমার মনে হয় আইসিসিকে একটা চিঠি দেয়া উচিত।’
রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় লম্বা সময় ধরে ভারতের মাটিতে খেলতে যাচ্ছে না পাকিস্তান। গত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের মেয়েরা খেলেছেন শ্রীলঙ্কাতে। একই চিত্র ভারতের ক্ষেত্রে। গত বছরের শুরুতে হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে যাননি বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মারা। সবগুলো ম্যাচই তারা খেলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো খেলবে শ্রীলঙ্কায়।
সুজন মনে করেন, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেয়া গেলে সেটা একটা ভালো সমাধান হতে পারে। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের সবগুলো ম্যাচ যদি অন্য ভেন্যুতে করা যায় ভারত ছেড়ে (বাইরে) সেক্ষেত্রে হয়তবা সেটা একটা ভালো সমাধান হতে পারে।’