ক্লিনারদের বিসিবি দেয় ৬৫০ টাকা, ওরা পায় ৩০০ টাকা: তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট
তামিম ইকবাল, ক্রিকফ্রেঞ্জি
তামিম ইকবাল, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ১৪শ কোটি টাকার বোর্ড বলে ব্যঙ্গ করা হয়ে থাকে। কিন্তু দেশের সবচেয়ে ধনী এই ক্রীড়া সংস্থার যেন পরতে পরতে দুর্নীতি আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌড়াত্ব। খেলা দেখতে আসা দর্শক থেকে শুরু করে বিসিবিতে কাজ করা কর্মচারীদের সবাই এই অনিয়মের ভুক্তভোগী। সভাপতির দায়িত্ব নেবার পর তামিম ইকবালের সামনে বেড়িয়ে আসছে সেসব নগ্ন দুর্নীতি আর অনিয়মের চিত্র।

সবশেষ খেলা দেখতে আসা এক দর্শকের মাধ্যমে বিসিবির পরিচ্ছন্নতা বিভাগের অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসে তামিমের। এরপরই একে একে বেরিয়ে আসে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সব অনিয়মের খতিয়ান।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে এসে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপ কালে তামিম জানিয়েছেন বিসিবির অভ্যন্তরের এসব অনিয়মের কথা, 'আমি ওইদিন যখন গ্যালারিতে গিয়েছিলাম তখন ফিনল্যান্ড থেকে একজন মহিলা ওইদিন সকালেই সে ফ্লাইটে ল্যান্ড করে এয়ারপোর্টে, ওখান থেকে সরাসরি মাঠে খেলা দেখতে এসেছিলেন। তো সে আমাকে খুব সুন্দর করে এসে বলল যে ‘ভাইয়া যদি একটু ওয়াশরুমগুলা ঠিক করা যায়।'

এরপর এই ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে তামিম জানতে পারেন স্টেডিয়াম ২০০৭ সালে তৈরি হবার পর থেকে আর বাথরুম নিয়ে কোনো সংস্কার হয়নি। এরপর পাশাপাশি খোঁজ নিতে গিয়ে বিসিবির ক্লিনারদের দৈনিক মজুরি থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্যও পেয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কথা বলে তিনি এই দুর্নীতির শেকড় খুঁজে পাবার ঘটনার ব্যাপারে তামিম বলেন, 'ওখানে একজন আমাদের খালাম্মাকে ডাকি, খালাম্মা একজন ছিলেন যার দায়িত্ব হলো বাথরুমটাকে পরিষ্কার রাখা। তো উনি আমাকে একটা কথা বলেছিলেন যে, "ভাইয়া আমাদের ৩০০ টাকা করে পাই দিনপ্রতি। এই জিনিসটা যদি আপনি একটু দেখতেন।"

তামিম আরো যোগ করেন, 'গতকাল আমি বিসিবিতে গিয়েছিলাম, বিসিবিতে যেয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম যে, আমরা যে ক্লিনিং সার্ভিসটা আছে তাদের জনপ্রতি কত টাকা করে দেই? তখন জেনে অবাকই হলাম যে ৬৫০ টাকা করে দেই। তো তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম যে ৬৫০ টাকা করে দিই তাহলে এরা ৩০০ টাকা কেন পাচ্ছে?'

পুরো প্রক্রিয়াটিকে পরিকল্পিত দুর্নীতি বুঝতে পেরে তামিম খতিয়ে দেখেন বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আমি ক্লিনিং সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, তাকে প্রতি ক্লিনারের জন্য ৬৫০ টাকা করে দেওয়া হয়। ব্যবসায়িক লাভ ও খরচ বাদ দিলেও একেকজন কর্মীর অন্তত ৫০০ টাকা পাওয়ার কথা। তখন ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ৫০০ টাকাই দেন। কিন্তু টাকাটা তিনি সরাসরি কর্মীদের না দিয়ে বিসিবির জনৈক কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন। এরপর সেই কর্মকর্তা সেখান থেকে বড় অংশ রেখে দিয়ে অসহায় কর্মীদের হাতে মাত্র ৩০০ টাকা ধরিয়ে দেন।’

দুর্নীতি ও অনিয়মের পরিমাণ যাই হোক না কেন, এর বিরুদ্ধে নিজের শক্ত অবস্থান আরো একবার ব্যক্ত করেন তামিম। অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির এই স্বল্প সময়ের মাঝেই নিজের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করতে চান তিনি। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সব কাজ শেষ করতে না পারলেও শুরু করাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তামিম আরো বলেন, 'এই প্রত্যেকটা জিনিস আমি খুব শক্তিভাবে দেখছি। একটা বড় দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার সময় পাওয়া যায়, তদন্ত কমিটি করা যায়। কিন্তু এই মহিলাগুলো (ক্লিনার) যারা ৭-১০ হাজার টাকা বেতন পায়, তাদের থেকে যদি ৫০০ টাকাও কেউ নেয়, এটা একটা বড় অপরাধ। এই জিনিসটা আমি থাকতে এক বিন্দুও ছাড় হবে না। ১ শতাংশও ছাড় হবে না। এই জিনিসগুলো তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ যাতে পরবর্তীতে কেউ এসে এমন দুই নম্বরি না করতে পারে।'

আরো পড়ুন: