ফাইনালে যেতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে অল আউট করতে হতো তাসকিন আহমেদ-মুস্তাফিজুর রহমানদের। তবে তাদের কেউই বিশেষ কিছু করে দেখাতে পারেননি। বাংলাদেশের পুরো বোলিং ইউনিটই আফগানদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। আগেই ফাইনালে ওঠা আফগানিস্তান জয় পেয়েছে ৭ উইকেটে। আফগানিস্তানের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় ভালো শুরুর চেষ্টা করেছিলেন ইব্রাহিম ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। যদিও স্বাগতিকদের দুই ওপেনারের জুটি খুব বেশি বড় হতে দেননি তাসকিন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরে ভেতরে ঢোকা গুড লেংথ ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন গুরবাজ। তবে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি।
তাসকিনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে। দ্বিতীয় উইকেটে সেদিকউল্লাহ অটল ও ইব্রাহিম মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের দুজনের জুটিও জমতে দেননি তাসকিন। ডানহাতি পেসারের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ৪ রান করা সেদিকউল্লাহ। ৩৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তানকে এগিয়ে নিতে থাকেন ইব্রাহিম ও রহমত।
তাদের দুজনের জমে ওঠা জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসারের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ৪৮ বলে ৩৪ রান করে ফিরেছেন ইব্রাহিম। ডানহাতি ওপেনারের বিদায়ে ভেঙেছে রহমতের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি। ইব্রাহিম ফিরলেও ৬৬ বলে ক্যারিয়ারের ৩৪তম ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন রহমত।
ইব্রাহিম ফেরার পর রহমত ও হাশমতউল্লাহ শহীদি মিলে জুটি গড়েন। তারা দুজনে মিলে ৬৬ রানের জুটি গড়েছেন। ৯০ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত অধিনায়ক রহমত। তাকে সঙ্গ দেওয়া হাশমতউল্লাহ ৫৪ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন দুইটি এবং মুস্তাফিজ একটি উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো কর পারেনি বাংলাদেশ। দ্রুতই ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। পরপর দুই বলে তাদের দুজনকে ফেরান ইয়ামিন আহমদজাই। টিকতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্তও। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ফাঁদে পড়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।
রানের খাতা খুলতে পারেননি হৃদয়। বাংলাদেশের অধিনায়ককে ফেরান ওমরজাই। ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সফরকারীদের টেনে তোলার চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে মিলে ৯৩ রান যোগ করেন। ৮২ বলে ৪১ রান করে সাইফ ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি।
সাইফ আউট হওয়ার একটু আগে ৭৫ বলে ফিফটি তুলে নেন ইমন। তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন মিরাজ। এই অলরাউন্ডারের বিদায়ে ১২৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শরিফুল ইসলাম। তিনি ফিরেছেন রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে।
দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা ইমনকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন রশিদ। বাংলাদেশের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার খেলেন ৯৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস। দুইটি ছক্কার সঙ্গে পাঁচটি চার মেরেছেন ইমন। রশিদ পর পর দুই বলে আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজকে আউট করে বাংলাদেশের ইনিংস ১৬০ রানে গুটিয়ে দেন। ডানহাতি স্পিনার একাই নিয়েছেন চারটি উইকেট।