‘ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানই ফেভারিট’, দাবি রহমতের

ত্রিদেশীয় সিরিজ
রহমত শাহ
রহমত শাহ
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাতের চেনা কন্ডিশন, বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজ জয়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স, ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে আফগানিস্তানের আত্মবিশ্বাসের কারণ কম নয়। তিন দলের লড়াইয়ে তাই নিজেদের ফেভারিট মনে করছেন অধিনায়ক রহমত শাহ। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কেও সচেতন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ভারসাম্যপূর্ণ দলকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা দিয়েই খেলতে হবে।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। আবুধাবি ও শারজায় দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আফগানদের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে রহমত বলেন, 'আফগানিস্তান এখানে ফেভারিট দল হবে। কারণ আমরা আরব আমিরাতে আমাদের সব ম্যাচ খেলে আসছি এবং বেশিরভাগ ম্যাচ আবু ধাবি ও শারজাহতে খেলেছি। তাই কন্ডিশন বিবেচনা করলে আমাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা রয়েছে।'

নিজেদের এগিয়ে রাখলেও বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে খাটো করে দেখছেন না তিনি। দুই দলের ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্যের কথা উল্লেখ করে রহমতের বিশ্বাস, দর্শকেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপভোগ করবেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ওয়ানডে রেকর্ডও রহমত শাহের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শারজায় তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আফগানিস্তান।

আরও বড় সাফল্য আসে ২০২৫ সালের অক্টোবরে, এই সংযুক্ত আরব আমিরাতেই। আবুধাবিতে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে আফগানরা। প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেটের জয়ের পর দ্বিতীয়টিতে ৮১ রানে এবং শেষ ম্যাচে ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জেতে তারা। শেষ ম্যাচে ২৯৩ রান করার পর বাংলাদেশকে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট করে আফগানিস্তান।

একই মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে এমন সাফল্য এবারও আফগানদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৩২ রানের বড় জয়ের পর শেষ ম্যাচে আট উইকেটের জয় পায় আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া টেস্ট থেকেও ইতিবাচক দিক খুঁজে নিচ্ছেন রহমত। আবুধাবিতে ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশের বোলারদের সামলে ব্যাটিং করে ড্র নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। অধিনায়কের মতে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বাঁচানোর অভিজ্ঞতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

টেস্ট ম্যাচের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সেটি আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ ছিল। পঞ্চম দিনে আমাদের এবং বাংলাদেশের যে অবস্থান ছিল, তা বিবেচনা করে আমি সব কৃতিত্ব ব্যাটসম্যানদের দিতে চাই। বিশেষ করে পঞ্চম দিনে ব্যাটিং করে ম্যাচটি ড্র করার জন্য। সেখান থেকে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি এবং এই সিরিজেও আমরা সেই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করব।'

টেস্টে যেসব অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে পাওয়া যায়নি, ওয়ানডেতে তাদের ফেরাও আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রশিদ খানের উপস্থিতি দলের বোলিং আক্রমণে বড় শক্তি যোগ করবে। রহমত মনে করেন, বিশ্বমানের ক্রিকেটারদের ফিরে পাওয়া দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

রহমত বলেন, 'আপনি যাদের কথা বললেন তারা বিশ্বমানের খেলোয়াড় এবং তারা তা প্রমাণও করেছেন। বিশেষ করে রশিদ খান, কারণ আমরা যে টেস্টগুলো জিতেছি সেগুলোতে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে জয়ে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন। স্কোয়াডে তার অভাব আমরা অনুভব করেছি। তবে ওয়ানডেতে তাদের ফিরে পাওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় সুবিধা নিয়ে আসবে।'

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার হিসাবও রাখছে আফগানিস্তান। আরব আমিরাতের কন্ডিশন তাদের পরিচিত হলেও বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েদুই দলই নিজেদের দিনে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। রহমত বলেন, 'অবশ্যই, দুটি দলই অনেক শক্তিশালী এবং আপনি যদি উভয় দলের কম্বিনেশন দেখেন, বোলিং হোক বা ব্যাটিং, তা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ইনশাআল্লাহ, দর্শকরা এটি বেশ উপভোগ করবেন।'

আরো পড়ুন: