‘অস্ট্রেলিয়ানরা ক্রিকেট ভালো শেখাবে আর বাঙালিরা পারবে না, এটা বিশ্বাস করি না’

বাংলাদেশ ক্রিকেট
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
কদিন আগে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের পদ ছেড়ে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্সের দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তবে এখনো জাতীয় দলে আছেন একাধিক বাংলাদেশি কোচ। জাতীয় দলে দেশি কোচদের কাজ করতে দেখে বেশ খুশি খালেদ মাহমুদ সুজন। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মনে করেন, তাদের মধ্যেই কেউ কেউ একদিন বড় কোচ হবেন এবং বিদেশে কাজ করবেন।

একটা সময় বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রাণের দাবি ছিল জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন দেশি কোচরা। ভারতের মতো বাংলাদেশ থেকেও বেরিয়ে আসবেন রবি শাস্ত্রী, ভিভিএস লক্ষ্ণণ, অনিল কুম্বল কিংবা রাহুল দ্রাবিড়ের মতো কোচরা। অনেক দিনের চাওয়ার পর গত কয়েক বছরে সেই পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যেখানে সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সালাহউদ্দিন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় দলে কোচিংয়ের সুযোগ পাওয়া সালাহউদ্দিন নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন এইচপিতে। তবে এখনো জাতীয় দলে পেস বোলিং কোচ হিসেবে তালহা জুবায়ের, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও ফিল্ডিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন আশিক মজুমদার। তাদের সবাইকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেন সুজন। পাশাপাশি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শুধু অস্ট্রেলিয়ানরাই ভালো ক্রিকেট শেখাতে পারবে ব্যাপারটা এমন নয়।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সুজন বলেন, ‘অবশ্যই, এটাই হওয়া উচিত। আমাদের দেশি কোচরা অনেকদিন ধরেই কাজ করছে, অনেকে লেভেল থ্রি কোর্সও সম্পন্ন করেছে অনেক আগেই। সুযোগটা অনেক থেকেই শুরু করা উচিত ছিল। আমি খুবই খুশি বাংলাদেশ দলে আশরাফুল, তালহা, সালাহউদ্দিন, সোহেল, বাবুল ভাইকে দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে হয় এটা খুবই ভালো একটা শুরু। আমাদের হাই পারফরম্যান্স দলে সালাহউদ্দিন দায়িত্ব নিচ্ছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘আমাদের যুব দলে হান্নান আছে। আমার মনে হয় ক্রিকেট ইজ নট রকেট সায়েন্স। আমি এটা বিশ্বাস করি না যে অস্ট্রেলিয়ানরাই ক্রিকেট ভালো শেখাতে পারবে আর বাঙালিরা পারবে না। আমি খুব খুশি যেভাবে এগোচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে এখান থেকে আমাদের অনেক বড় বড় কোচ তৈরি হবে, যারা এক সময় হয়ত বিদেশে গিয়েও কাজ করবে।’

সালাহউদ্দিনের জায়গায় সহকারী কোচ হিসেবে এখনো কাউকে নিয়োগ দেয়নি বিসিবি। গুঞ্জন আছে, ২০২৭ বিশ্বকাপ ভাবনায় সাউথ আফ্রিকার কন্ডিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা এমন বিদেশি কাউকে সহকারী কোচ হিসেবে নিতে চায় তারা। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কিছুই জানায়নি তামিম ইকবালের বোর্ড। সুজন মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশি কোচদের রেখে স্বল্প সময়ের জন্য বিশেষজ্ঞ কাউকে আনা যেতে পারে।

সুজন বলেন, ‘স্বল্প সময়ের জন্য হয়ত আপনি কাউকে নিতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী আপনার কোচ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি কোচদের ক্ষেত্রে কী হয়? সফরভিত্তিক ছিল অনেক সময়, আপনারাও দেখেছেন সফরের সময় থাকে আবার সফর শেষে ১৫ দিনের ছুটি, কেউ হয়ত একমাস পরে আসে। ওই সময় ছেলেরা কার সাথে কাজ করবে? আমার মনে হয় শিক্ষক একটা থাকাই ভালো। স্থানীয় কোচরা তো আর সফরের পর দেশের বাইরে কোথাও যায় না, দেশেই থাকে। তখন তারা কাজ করতে পারে। আমি বলছি না আমি বিদেশি কোচদের বিপক্ষে তবে আমি বলতে চাই স্বল্প সময়ের জন্য কাউকে প্রয়োজন হলে আনা যেতে পারে।’

সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ ছিলেন আশরাফুল। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। জানা গেছে, বিসিবিও সাবেক অধিনায়কের কাজে সন্তুষ্ট। আশরাফুলের মতো তালহা ও আশিকুরের কাজ নিয়েও খুশি তারা। দলের প্রয়োজন না হলে বিদেশি কাউকে আনার পক্ষে নন সুজন। তবে সুজন কিংবা তালহাদের কেউ যদি ওই জায়গার জন্য যোগ্য না হন তাহলে বিদেশি কাউকে বিবেচনা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আপনি যদি বিদেশ থেকে কাউকে আনেন তাহলে আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনি কোথায় আনবেন। যদি মনে করেন তালহা ওতটা ভালো করছে না বা অভিজ্ঞতা নাই তাহলে আপনি যদি একজন পেস বোলিং কোচ আনতে চান সেটা অন্য বিষয়।’

‘যদি মনে করেন আশরাফুল ভালো না তাহলে আপনি একজন বিদেশি ব্যাটিং কোচ আনতে পারেন যিনি কিনা সিমন্সকে ব্যাটিং কোচ হিসেবে সাহায্য করবে। এটা পুরোপুরি নির্ভর করে দলের কোনটা প্রয়োজন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারও নাম না দেখে প্রয়োজন দেখতে হবে। জায়গা খালি আছে বলে আমি কাউকে নিলাম এটা না করে স্কিলের উপর জোর দিতে হবে বা আমাদের কাকে দরকার সেটা চিন্তা করতে হবে।’

আরো পড়ুন: