বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ৭৭ টেস্ট ও ১২ টেস্ট খেলেছেন সুজন। একটা সময় বাংলাদেশের অধিনায়কও ছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে জয়, বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানকে হারানো, পাকিস্তান গিয়ে টেস্টে তাদের হোয়াইটওয়াশ কিংবা মাউন্ট মঙ্গানুইতে অবিশ্বাস্য টেস্ট জয়। সবই দেখার সুযোগ হয়েছে সুজনের। তবে সাবেক অধিনায়কের চোখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়ই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়।
এ প্রসঙ্গে সুজন বলেন, ‘অবশ্যই এটা আমাদের স্মরণীয় জয়। আমি মনে করি যেকোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় জয়। কারণ টেস্ট ম্যাচ জেতা সবসময় কঠিন। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল। অবশ্যই, তাদের সাথে খেলা এবং তাদের দেশের মাটিতে টেস্ট জয়, এটা বিরাট সাফল্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে এটা আমাদের সবার জয়। এটা সারাদেশের জয়। অবশ্যই, সবার মতো আমিও আনন্দিত। যেহেতু বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলাম, খেলেছি- বাংলাদেশের সাফল্য অবশ্যই আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমি মনে করি এটা আমাদের সামনের দিকে যাওয়ার একটা যাত্রা শুরু।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের তুলনায় টেস্ট ভালো করছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০২২ সালের পর থেকেই বড় ধরনের একটা পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেট পরিবর্তন, বল পরিবর্তন বড় প্রভাব রেখেছে। সুজন মনে করেন, হুট করেই কিছু হয় না। বরং ভালো একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন ফল আসে। যেখানে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকদের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের কৃতিত্ব দিচ্ছেন।
সুজন বলেন, ‘দেখুন- হঠাৎ করে কিছুই হয় না। একটা প্রক্রিয়া থাকে, সময় লাগে। লম্বা একটা সময় ধরে আমরা চেষ্টা করছিলাম টেস্ট ম্যাচে আমরা কীভাবে আরও ভালো দল হতে পারি। এজন্যই ভালো উইকেটে খেলা, ভালো বলে খেলা শুরু হয়েছিল। সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছে তাদের অবদানও অপরিসীম। মুমিনুল, মুশফিক অনেকদিন ধরে নিয়মিত টেস্ট খেলে। তারা দুজন আমাদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, তাদের অবদান আছে।’
দল হিসেবে ভালো করার পেছনে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে পেস বোলিং ইউনিট। একটা সময় একজন কিংবা দুজন পেসার খেলাতে যেখানে হিমশিম খেতে হতো সেখানে এখন নিয়মিত তিনজন পেসার খেলাচ্ছে। তাসকিন আহমেদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেনরা। সুজন মনে করেন, আগামী ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের পাইপলাইন শক্তিশালী হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পেস বোলারদের এখন একটা ট্রেন চালু হয়েছে। আপনি যদি আমাদের পাইপলাইন দেখেন অনেক পেস বোলার আছে। আমি মনে করি আগামী ১০ বছরের জন্য আমাদের পাইপলাইন অনেক শক্তিশালী। এটা আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক দিক। টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে আপনাকে ২০ উইকেট নিতে হবে। টেস্ট ম্যাচ জেতার জন্য স্পিনার বোলারদের প্রয়োজন আছে, তেমনি পেস বোলারদেরও প্রয়োজন আছে।’
ডারউইন টেস্টের পুরোটা সময় দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সবাই যেখানে বাংলাদেশকে তিনদিনে হারিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছিল। বাংলাদেশ সেখানে উল্টো সাড়ে তিন দিনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। ১১ সেশনের মধ্যে ১০ সেশনই জিতেছে বাংলাদেশ। এমন ডমিনেটিং পারফরম্যান্সে খুশি সুজন। এভাবেই বাংলাদেশ দলকে দেখতে চান তিনি।
সুজন বলেন, ‘চতুর্থ দিনে গিয়ে টেস্ট ম্যাচটা শেষ হয়েছে। ১১ সেশনের মধ্যে আমরা মনে হয় একটা সেশন হেরেছি। সেটাও নতুন বলে যখন শান্ত, লিটন এবং মুশফিক যখন আউট হয়েছে। এ ছাগা কিন্তু প্রায় ১০ টা সেশনেই আমরা অস্ট্রেলিয়ার সাথে জিতেছি। এটা বড় একটা সাফল্য, এরকম ডমিনেট করে ম্যাচ জেতা। আমি ওইটাই দেখতে চাই যে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করব, চোখে চোখ রেখে যুদ্ধ করব। আমি সেটাই দেখতে চাই। এটা করলেই আমি খুশি হবো।’