সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুজন জানিয়েছেন, মাঠে এবং মাঠের বাইরে শান্ত বেশ ভিন্ন। তার জয়ের মানসিকতাই অন্যদের থেকে তিনি আলাদা। শান্ত দলের জন্য সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সব সময় জয়ের বিকল্প কিছু ভাবেন না এই টেস্ট অধিনায়ক। অল্প রানে গুটিয়ে গেলেও শান্ত বিশ্বাস হারান না বলে ধারণা সুজনের।
সুজন ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘শান্ত মাঠের বাইরে আক্ষরিক অর্থেই শান্ত ও চুপচাপ, কিন্তু মাঠে খুবই আগ্রাসী। জয়ের মানসিকতা আছে বলেই মাঠে সে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সে সব সময় জিততে চায়। সে তার সতীর্থদের বিশ্বাস করে। ছোট রানও তারা রক্ষা করতে পারবে বলে তার বিশ্বাস আছে। সে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতার মানুষ। সবকিছুতেই জিততে চায়। ক্লাব পর্যায়েও আমি তার এই দিকটি দেখেছি।’
দলের জন্য নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে রান না পেলেও ফিল্ডিংয়ে তা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। শান্তর অধিনায়কত্ব নিয়ে নিজের পরামর্শের কথাও জানিয়েছেন মাহমুদ। ব্যাটিংয়ের সময় অধিনায়কত্বের চিন্তা না করে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ তার।
সুজন বলেন, ‘শান্তর মানসিকতা দারুণ। সে দলকে নিজের শতভাগ দিতে চায়। রান না করলে ফিল্ডিংয়ে সেটা পুষিয়ে দিতে চায়। অধিনায়ক হওয়ার পর সে আরও দায়িত্বশীল হয়েছে বলে আমার মনে হয়। ইদানীং তাকে অনেক বেশি পরিণত মনে হয়। কখনো কখনো মজা করে বলি, তুমি ক্রিকেট নিয়ে বেশি ভাবছ। সে বলে, খেলাটার মধ্যেই থাকতে তার ভালো লাগে।’
শুধু মাঠের সিদ্ধান্ত নেয়াই নয়, মাঠের বাইরেও সতীর্থদের দেখভাল করতে বেশ সক্রিয় শান্ত, এমনটাই জানিয়েছেন সুজন। যেকোনো অধিনায়ককে শুধু মাঠে নেতৃত্ব দিলেই হয় না, দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক ও ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষ হতে হয় বলে মনে করেন অনেকে। শান্তও সতীর্থদের ফিটনেস ও ভালো থাকার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নেন, এমনকি সব সময় দলের সঙ্গে না থাকলেও।
সুজন বলেন, ‘সে এ ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। ক্রিকেটই তার সবকিছু। সব সময় ক্রিকেট নিয়ে ভাবে। আমার খুব ভালো লাগে যে শান্তর মাঠের বাইরে ও মাঠে দুই জায়গাতেই অধিনায়ক। মাঠের বাইরে সে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়, আর মাঠে সে অধিনায়ক। ক্রিকেট সম্পর্কে তার জ্ঞানও ভালো। সে সব সময় খেলা নিয়ে ভাবে।’