দুইদিন, ৭৫০ বল ও ম্যাকাই টেস্টে যত রেকর্ড

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
একটি করে টেস্ট জেতায় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ড্র হয়েছে
একটি করে টেস্ট জেতায় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ড্র হয়েছে
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ডারউইনে সবকটি সেশনে দাপুটে পারফর্ম করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় উল্টো চিত্র দেখতে হয়েছে সফরকারীদের। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অল আউট হওয়ার পর নাজমুল হোসেন শান্তরা দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ৯৫ রানে। প্রথমবারের একই টেস্টের দুই ইনিংসেই একশর নিচে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। ভুতুরে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে হারতে হয়েছে সফরকারীদের। প্রথম টেস্ট জেতায় ১-১ এ শেষ হয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি।

পঞ্চম

প্রথম টেস্ট সাড়ে তিন দিন পর্যন্ত গেলেও ম্যাকাই টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র দুই দিনে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পঞ্চমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটেছে। যেখানে চারটি ঘটনা ঘটেছে গত পাঁচ মৌসুমে। অ্যাশেজের গত মৌসুমে দুইটি টেস্ট শেষ হয়েছে দুইদিনের মধ্যে। টেস্ট ইতিহাসে অবশ্য দুইদিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার ঘটনা আছে ২৮টি।

৭৫০

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টে দুই দল মিলে মাত্র ৭৫০ বল খেলেছে। টেস্ট ক্রিকেটে বলের হিসেবে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন। সবচেয়ে কম বল খেলার রেকর্ড এখনো সাউথ আফ্রিকা ও ভারতের দখলে। ২০২৪ সালে কেপটাউনে দুই দল মিলে খেলতে পেরেছিল ৬৪২ বল। দুইয়ে রয়েছে ৬৫৬ বল খেলা ১৯৩১-৩২ মৌসুমের অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকার টেস্ট। এ ছাড়া ১৯৩৫ সালে ব্রিজটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ শেষ হয়েছিল ৬৭২ বলে।

২১০

ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অল আউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যা কিনা অজিদের চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোর যেখানে তারা ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ১৯৪৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ১৯৯ রানে ডিক্লেয়ার করেও ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫৩ রান করেও ইনিংস ব্যবধানে জিতেছিল অজিরা।

চতুর্থ

দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসেই একশর নিচে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। এবারই প্রথম এমনটা ঘটেছে বাংলাদেশের সঙ্গে। তবে ১৯৬০ সালের পর টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন ঘটনা চতুর্থবার। ১৯৪ সালে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ৮২ ও ৯৩ রানে অল আউট হয়েছে। ২০০২ সালে শারজাহতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান অল আউট হয়েছে ৫৯ ও ৫৩ রানে।

এ ছাড়া ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়েকে ৫৯ ও ৯৯ রানে অল আউট করেছিল নিউজিল্যান্ড। দুই ইনিংস মিলে ১৫৯ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানের অ্যাগ্রিগেট। পেছনে ফেলেছে ২০১৮ সালে নর্থ সাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ১৮৭ রান করার ঘটনাকে।

চতুর্থ

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফেরান মিচেল স্টার্ক। ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার। পেছনে ফেলেছেন হান্নান সরকারকে তিনবার আউট করা পেদ্রো কলিন্সকে। এ ছাড়া ইনিংসের প্রথম ওভারে ৯বার উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। ৪৩ ইনিংসে এমন কীর্তি গড়েছেন তিনি। যেখানে ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন ৭৫ ইনিংসে নিয়েছেন ৮বার।

২২

প্রথম ইনিংসে মাত্র ২২ বলে বাংলাদেশের পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। বলের হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যা ষষ্ঠ দ্রুততম ঘটনা। স্টার্ক নিজেই অবশ্য শীর্ষে আছেন। গত বছর কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার।

চতুর্থ

প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া স্টার্ক দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন আরও চার উইকেট। সবমিলিয়ে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ান পেসারের শিকার ১০ উইকেট। ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো এক টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাঁহাতি পেসার হিসেবে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। স্টার্কের উপরে আছেন ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ১০ উইকেট পেয়েছেন পাঁচবার।

৭/৪৮

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম টেস্টেই ৪৮ রান খরচায় ৭ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশের পেসার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে সেরা বোলিং ফিগার এখন তার। পেছনে ফেলেছেন শাহাদাত হোসেন রাজীবকে। ২০০৮ সালে মিরপুরে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ডানহাতি পেসার ২৬ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। তবে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার এখন শরিফুলের। তার উপরে আছেন তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৭ উইকেট নেওয়া একমাত্র পেসার শরিফুল।

চতুর্থ

টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন স্টার্ক। দিনের শেষ বিকেলে একই কাজ করেন শরিফুলও। বাংলাদেশের পেসারও ছয়টি উইকেট নেন। টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রথম দিনেই ছয়টি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ও স্টার্ক। এর আগে ১৯০২ সালে মেলবোর্নে মন্টি নোবেল-সাইড বার্নস, ১৯০৭ সালে হেডিংলিতে কলিন ব্লাইথ-অব্রি ফকনার এবং ১৯৫১ সালে অ্যাডিলেডে বিল জনস্টন-ফ্র্যাঙ্ক ওয়ারেল এমন কীর্তি গড়েছিলেন।

আরো পড়ুন: